ছেলের জন্য ওষুধ আনতে গিয়ে মৃত্যু! ১০০ আবেদনের পরও সেতু নেই, বাঁশের সাঁকোতে ‘মৃত্যুফাঁদ’

বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার ভগবতীপুর এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক গ্রামবাসী। অসুস্থ সন্তানের জন্য ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গ্রামের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তার ওপর শালী নদীর ওপর তৈরি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো থেকে নদীগর্ভে পড়ে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নামলেও, একইসঙ্গে ফের একবার প্রশাসনের চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ।

ভগবতীপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শালী নদী সারা বছর শুকনো থাকলেও বর্ষায় তা ভয়াবহ রূপ নেয়। এই নদী পারাপারের জন্যই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি পাকা সেতু। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, হাজার আবেদনের পরেও শালী নদীর ওই এলাকায় শুধুমাত্র একবার মাটি পরীক্ষার কাজ হয়েছিল, কিন্তু পাকা সেতু তৈরির কোনও উদ্যোগ আজ পর্যন্ত চোখে পড়েনি। অগত্যা গ্রামের মানুষ নিজেরাই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে পারাপার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে ভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় ঘোষ (৩৪) তাঁর অসুস্থ শিশু সন্তানের জন্য বাইকে করে সাঁকো পেরিয়ে রসুলপুর বাজারে ওষুধ আনতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে সেই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো থেকে বাইক সমেত কোনওভাবে নদীগর্ভে পড়ে যান সঞ্জয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীগর্ভে থাকা বালির মধ্যে তাঁকে ঘাড় গুঁজে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলেই সঞ্জয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সকলে।

খবর পেয়ে ইন্দাস থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় যেখানে এক তরতাজা প্রাণ গেল, সেখানে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যদি পাকা সেতু তৈরিতে উদ্যোগী হতো, তাহলে এমন দুর্ঘটনা ঘটত না। ফের একবার শালী নদীর ওপর পাকা সেতু তৈরির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার মানুষ।