বড়জোড়া ইস্পাত কারখানায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, শ্রমিক সুরক্ষার দাবিতে উত্তেজনা, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলের ঘুটগোড়িয়ার একটি ইস্পাত কারখানায় কর্মরত অবস্থায় বিজয় ধীবর (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের বাড়ি স্থানীয় সাহারজোড়া গ্রামে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও বিক্ষোভ: বড়জোড়া থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে মর্নিং শিফটে কাজে যোগ দিয়ে বিজয় ধীবর কম্প্রেসার মেশিনের বোতাম টিপতেই বেল্ট ছিঁড়ে সপাটে তাঁর মুখমন্ডলে সজোরে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বড়জোড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রমিকদের ক্ষোভ: বিজয়ের মৃত্যুর পরপরই কারখানার ভিতরে ও বাইরে থাকা শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিক সুরক্ষায় উদাসীনতার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
রাজনৈতিক চাপান-উতোর: খবর পেয়ে কারখানায় আসেন পঞ্চায়েত প্রধান গণেশ মন্ডল। তাঁর মধ্যস্থতায় শ্রমিকরা কিছুটা শান্ত হলেও, বিজেপি সমর্থিত শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং শাসক দলের নেতাদের মদত ও তোলাবাজির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
বিজেপির অভিযোগ: বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত অগস্তি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেন, “অধিকাংশ মালিক তৃণমূল নেতাদের মাসোহারা দিয়ে শ্রমিক সুরক্ষার দিকে নজর না দিয়ে মুনাফা কুড়োনোর দিকেই নজর রাখছে। যার ফলে ক্রমান্বয়ে দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।”
বিধায়কের কটাক্ষ: বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক অলক মুখার্জি সুজিত অগস্তির এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে বলেন, “ওনারা তোলাবাজির ধান্দায় রাজনীতি করে। তৃণমূল শ্রমিকদের পাশে থাকে। ওনাদের তো খুঁজে পাওয়া যায় না, শুধু সংবাদ মাধ্যমে বুলি আওড়াতে দেখা যায়।”
ক্ষতিপূরণের আশ্বাস: মৃত বিজয়ের প্রতিবেশী অজয় প্রামাণিক জানান, অত্যন্ত গরিব পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল বিজয়। সংসারের হাল ধরতে ১৮ বছর বয়সে সে কাজে যোগ দিয়েছিল। পুত্রের শোকে বাবা দেবদাস ধীবর কাতর এবং মা শোকে ভেঙে পড়েছেন।
বিধায়ক অলক মুখার্জি, পঞ্চায়েত প্রধান গণেশ মন্ডল এবং পুলিশ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। অলক মুখার্জি জানান, কর্তৃপক্ষ বিজয়ের সৎকারের জন্য ৫০ হাজার টাকা, ক্ষতিপূরণ হিসেবে এককালীন ১০ লাখ টাকা এবং বিজয়ের বাবাকে কারখানায় কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।