মাওবাদী দমনে বড় আর্থিক আঘাত, ₹৯২ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ২ বছরে নিহত ২৮ শীর্ষ মাও নেতা

দেশজুড়ে মাওবাদী দমন অভিযানে (Anti Maoist Operations) বড় সাফল্য দাবি করল কেন্দ্র সরকার। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক অভিযানগুলিতে মাওবাদী সংগঠনগুলির ৯২ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এই বিশাল আর্থিক আঘাতে মাওবাদী সংগঠনের অর্থের জোগান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং এর ফলে ‘শহুরে’ নকশাল বা মাওবাদীদের মনোবলে বড় ধাক্কা লেগেছে।
তিন সংস্থার অভিযানে বাজেয়াপ্ত অর্থ: মাওবাদীদের আর্থিক ভিত দুর্বল করতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) একটি বিশেষ দল গঠন করেছিল।
এনআইএ (NIA): প্রায় ৪০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।
রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দফতর: বিভিন্ন রাজ্যের অভিযানে বাজেয়াপ্ত হয়েছে আরও প্রায় ৪০ কোটি টাকার সম্পত্তি।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED): ইডি-র অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকার সম্পত্তি।
যদিও কোন নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে কমল প্রভাবিত জেলার সংখ্যা: কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলেই মাওবাদী প্রভাবিত এলাকার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী:
২০১৪ সালে: দেশে মাওবাদী প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ছিল ৩৬টি।
বর্তমানে: সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩টিতে।
নিহত ও আত্মসমর্পণকারীর সংখ্যায় রেকর্ড: সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৩১৭ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন এবং ৮৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণের প্রবণতাও বেড়েছে—এ বছর এখনও পর্যন্ত ১,৯৭৩ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন।
গত দু’বছরে মাওবাদী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির মোট ২৮ জন শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়েছে। গত মাসেই মহারাষ্ট্র পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন মাওবাদী নেতা অনন্ত (বিকাশ নাগপুরে) সহ আরও ১০ জন। এছাড়া সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন মাওবাদীদের শীর্ষ নেতা মাদ্ভী হিডমা।
২০২৬-এর মধ্যে নির্মূলের লক্ষ্য: কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যেই দেশ থেকে মাওবাদী কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে গত কয়েক মাস ধরে মাওবাদী এলাকায় লাগাতার অভিযান চলছে।