সংশোধনাগারে স্বনির্ভরতার আলো, ঝাড়গ্রাম জেলে আবাসিকদের মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ, সমাজের মূল স্রোতে ফেরার উদ্যোগ

সাজা কাটানোর পর অপরাধে লিপ্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এবং সমাজে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এবং রোজগারের ব্যবস্থা করে দিতে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কারা বিভাগ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যান পালন বিভাগ। ঝাড়গ্রাম জেলা বিশেষ সংশোধনাগারে এবার আবাসিকদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মূল স্রোতে ফেরার বাধা: বহু সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন আবাসিক সংশোধনাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পুরনো কাজে ফিরতে পারে না। সমাজে অনেকেই তাদের আসামির চোখে দেখে, ফলে মূল স্রোতে ফিরতে বাধা পেতে হয়। এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে, আর্থিক রোজগারে যাতে সমস্যা না হয়, তাই মাশরুম চাষের দিশা দেখাচ্ছে কারা বিভাগ ও উদ্যান পালন দফতর।
প্রশিক্ষণের বিস্তারিত: রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার আওতায় ঝাড়গ্রাম জেলা বিশেষ সংশোধনাগারের সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন আবাসিকদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়: সংশোধনাগারে মোট ২০৫ জন আবাসিক (সাত জন মহিলা-সহ) রয়েছে। প্রথম ধাপে ৫০ জন আবাসিককে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ পদ্ধতি: প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫০ জন আবাসিক পরবর্তী ক্ষেত্রে আরও ৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেবে। এইভাবে সকল আবাসিককে মাশরুম চাষে দক্ষ করে তোলা হবে।
উৎপাদনের লক্ষ্য: জেলা উদ্যান পালন দফতরের আধিকারিক তামসী কোলে জানান, ৫০ জন আবাসিককে বিশেষ প্রজাতির মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ১০০টি ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়েছে। একটি ব্যাগ থেকে ২ থেকে ২.৫ কেজি পর্যন্ত মাশরুম উৎপন্ন হবে।
মাশরুম চাষের পদ্ধতি: আবাসিকদের হাতে-কলমে শেখানো হয়েছে যে, প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে খড়কুটো ও মাশরুম বীজ পর্যায়ক্রমে সাজিয়ে নিয়মত জল স্প্রে করলেই, ২০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে মাশরুম উৎপন্ন হয়ে যায়। সংশোধনাগারে একটি ঘরকে মাশরুম চাষের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সারা বছর প্রশিক্ষণ ও চাষ চলবে।
ঝাড়গ্রাম বিশেষ সংশোধনাগারের সুপার রাজেশ কুমার মন্ডল বলেন, “সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পুরোনো কাজে ফেরত যেতে পারেন না অনেকে। তাই কারা দফতরের সহযোগিতায় আবাসিকদের উদ্যান পালন দফতরের উদ্যোগে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আবাসিকরা আগামীদিনে অন্যদেরও প্রশিক্ষণ দেবে।”