SSC নবম-দশম ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ, ৪০ হাজার ডাক পেলেও বাদ বহু যোগ্য শিক্ষক; ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা

শুক্রবার রাতে প্রকাশিত হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ তালিকা। তালিকায় প্রায় ৪০ হাজার চাকরিপ্রার্থীর নাম থাকলেও, বাদ পড়েছেন বহু যোগ্য শিক্ষক। বঞ্চিত চাকরিহারা শিক্ষকদের দাবি, প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক এই তালিকায় নাম না থাকায় চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা দেখা দিয়েছে চাকরিহারাদের মধ্যে।

বঞ্চিত শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া:

হরিপদ বল্লভ অধিকারী (যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক, পশ্চিম মেদিনীপুর): তিনি জানান, “২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে আমার র‍্যাঙ্ক ছিল ৫৮৬। তখন আমি যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলাম। গতবারের চেয়ে এইবার নম্বর বেশি পেয়েও আমি ডাক পেলাম না। তাহলে কি আমি অযোগ্য হয়ে গেলাম? আমার অন্যায় কী? আমি কাউকে টাকা দিইনি। আমার বাবা দিনমজুরি করে পড়িয়েছেন, আমি টিউশনি করে পড়াশোনা করেছি। আমার মাথার উপর লোন আছে। শূন্য থেকে উঠে সবেমাত্র আশার আলো দেখেছিলাম, তারপরই এই পরিণতি। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রেও হলো না, নবম-দশমও না। এবার কী করবো জানি না।”

শুক্লা বিশ্বাস (বাংলা শিক্ষক, ৯০% দৃষ্টিহীন): তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাবা অসুস্থ, মা বাড়ি বাড়ি কাজ করে আমাদের পড়াশোনা শিখিয়েছেন। আমি ৯০ শতাংশ দৃষ্টিহীন। মাথার উপর ঋণ আছে। নতুনদের সঙ্গে আবার পরীক্ষায় আমরা কেমন করে পারবো? এক নম্বরের জন্য আমার হলো না। আমার সঠিক বিচার চাই। আমাদের জীবন শেষ করে দেওয়া ছাড়া আর উপায় নেই। ২০১৬ সালে মালদায় মেয়েদের মধ্যে আমি একমাত্র ছিলাম, আজ আমার নাম নেই নথি যাচাইয়ের তালিকায়।”

মেহবুব মন্ডল (যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের অন্যতম মুখ): তিনি বলেন, “নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াতে একটা বড় অংশের যোগ্য শিক্ষকের নাম নেই। বেশ কিছু বিষয়ের আসন সংখ্যা কমেছে। আমরা সরকারের কাছ থেকে কোনও নিশ্চয়তা পাইনি। এটা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন।”

সময় বাড়ানোর আবেদন জানাল SSC ও শিক্ষা দফতর: অন্যদিকে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে এসএসসি। ইতিমধ্যেই তারা সুপ্রিম কোর্টের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছে। শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ইন্টারভিউয়ে ডাক না-পাওয়া যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর থেকে আরও আট মাস বাড়ানোর জন্য শিক্ষা দফতরও সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে। শিক্ষা দফতরের কর্তারা মনে করছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি না করা হলে স্কুলগুলিতে শিক্ষকের ঘাটতি দেখা দেবে।