মেসির কলকাতা সফরে চরম অব্যবস্থাপনা, রাজ্যপালের ‘কালো দিন’ মন্তব্য; আয়োজকদের গ্রেফতার, পুলিশ সাসপেন্ডের নির্দেশ

ফুটবল আইকন লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে সল্টলেক স্টেডিয়ামে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র নিন্দা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এই দিনের ঘটনাকে কলকাতার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের জন্য তিনি একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। রাজ্যপাল এই সফরের সময় মসৃণভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য পরিকল্পনার অভাব নিয়ে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসির অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনার অভাবে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তাতে রাজ্যপাল হতবাক। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি আয়োজকদের দায়ী করলেও, একই সঙ্গে পুলিশ, সরকার এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যর্থতাকেও প্রকট বলে দাবি করেছেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যপাল রাজ্য সরকারকে একাধিক কঠোর নির্দেশ জারি করেছেন:

গ্রেফতার ও চার্জ: অনুষ্ঠানের আয়োজকদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং স্টেডিয়াম ও অন্যান্য সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির জন্য তাদের উপর চার্জ আরোপ করতে হবে।

টিকিট ফেরত: টিকিটধারীদের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিতে হবে।

তদন্ত: পুরো ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের সাসপেনশন: যেসব পুলিশ কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এসওপি ও বীমা: এখন থেকে বড় সমাবেশের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) চালু করতে হবে এবং দর্শকদের জন্য একটি বীমা প্রকল্প চালু করতে হবে, যার প্রিমিয়াম স্পনসর ও আয়োজকদের দিতে হবে।

এদিকে, এই বিশৃঙ্খলার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এই অব্যবস্থাপনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি মেসি, তাঁর ভক্ত এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে লিখেছেন, “সল্টলেক স্টেডিয়ামে আজ যে অব্যবস্থাপনা দেখলাম তাতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও হতবাক… আমি লিওনেল মেসি, সেইসাথে সমস্ত ক্রীড়াপ্রেমী এবং তাঁর ভক্তদের কাছে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”

তিনি আরও জানান যে বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) অসীম কুমার রায়ের সভাপতিত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ঘটনার দায় নির্ধারণ করবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সংশোধনমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করবে। মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপালের এই বিপরীতমুখী কড়া নির্দেশ রাজ্যের প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।