‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্ক তুঙ্গে! দিলীপ ঘোষের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, “পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ তৈরির ষড়যন্ত্র, মমতার উপহার”

পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ তৈরির দাবিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) নেতা দিলীপ ঘোষ এই পদক্ষেপকে রাজ্যে “বাংলাদেশ তৈরির ষড়যন্ত্র”-এর অংশ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি এই নির্মাণকে “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপহার” বলেও মন্তব্য করেন।

এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেন, “গোটা দেশে কোথাও বাবরি মসজিদ না থাকলে, বাংলায় কেন মসজিদ তৈরি হচ্ছে? কারণ এখানে বাংলাদেশ তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে, আর এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপহার।”

তিনি মুঘল সম্রাট বাবরের নামে মসজিদের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ঘোষের কথায়, “মসজিদ বানানো ভুল নয়, কিন্তু বাবরের নামে কেন বানাচ্ছেন? বাবর একজন অত্যাচারী আক্রমণকারী ছিলেন।” ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই এই মন্তব্য সামনে এল।

এদিকে, এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরির ইচ্ছা প্রকাশ করা কবীর ঘোষণা করেছেন যে আসন্ন নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিএমসি-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে তিনি আগামী ২২ ডিসেম্বর একটি নতুন রাজনৈতিক দল চালু করবেন।

কবীর এএনআই-কে বলেন, “আমি ২২ ডিসেম্বর একটি নতুন দল ঘোষণা করব। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেব। যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তাকে হুমায়ুন কবীরের সমর্থন নিতেই হবে।”

গত ৬ ডিসেম্বর, কবীর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপটি সাংবিধানিক এবং ভারতীয় সংবিধানের ২৬(ক) ধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, “আমি অসাংবিধানিক কিছু করছি না। যে কেউ মন্দির বানাতে পারে, যে কেউ গির্জা বানাতে পারে; আমি মসজিদ বানাব। বলা হচ্ছে যে আমরা বাবরি মসজিদ বানাতে পারব না। এটা কোথাও লেখা নেই।”

অন্যদিকে, বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, কবীরকে মুসলিমদের মধ্যে মেরুকরণের সুযোগ করে দিচ্ছেন মমতা। দলের পক্ষ থেকে কবীরের সাসপেনশনে দেরির কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই আবহে, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর কবীর জানান, মসজিদের জন্য ৩০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হাসপাতাল, একটি গেস্টহাউস এবং একটি মিটিং হল থাকবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এটা মুসলিমদের প্রতিশ্রুতি, বাবরি মসজিদ হবেই, হবেই, হবেই।”