“৫০ শতাংশ শুল্ক তুলে নেওয়া হোক…”-আমেরিকার পার্লামেন্টে ভারতের পক্ষে নিয়ে শোরগোল

ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ৫০% শুল্ক নিয়ে আমেরিকায় যে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তার পাশাপাশি এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (Bilateral Trade Agreement) চূড়ান্ত করা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তিই বর্তমানে দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে এবং ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক তুলে নেওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারে।
চুক্তির মূল বিষয়বস্তু এবং উদ্দেশ্য:
বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার মূল লক্ষ্যগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
শুল্ক হ্রাস (Tariff Reduction): চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য হলো দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির উপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো বা সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের দাম আমেরিকায় কমবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।
বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit) দূরীকরণ: ভারত চায় আমেরিকায় তার রপ্তানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে। অন্যদিকে, আমেরিকা চাইছে তাদের কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের (যেমন, কৃষি পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম) জন্য ভারতীয় বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার।
বাজার প্রবেশাধিকার (Market Access): ভারত চাইছে আমেরিকায় তার পরিষেবা খাত (বিশেষ করে আইটি এবং ডেটা সার্ভিস) এবং কিছু কৃষিজাত পণ্যের জন্য আরও ভালো বাজার প্রবেশাধিকার।
মেধা সম্পত্তির অধিকার (Intellectual Property Rights – IPR): এই চুক্তিতে মেধা সম্পত্তির অধিকার এবং ডেটা সুরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করছে।
৫০% শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা:
ট্রাম্প প্রশাসন যে ‘রাষ্ট্রীয় আপৎকাল’ (National Emergency) ঘোষণা করে ৫০% শুল্ক আরোপ করেছিল, তা তুলে নেওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে (যেমনটি ৩ ডেমোক্র্যাট সাংসদের প্রস্তাবে দেখা যায়)।
যদি একটি সর্বসম্মত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন সেই আপৎকালীন ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট শুল্ক প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
চুক্তি স্বাক্ষর হলে, তা ট্রাম্প প্রশাসনকে এই উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহারের একটি আনুষ্ঠানিক এবং রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য অজুহাত দেবে, যা অভ্যন্তরীণ সমালোচনা প্রশমিত করতে সাহায্য করবে।
ভারতের পণ্যে ট্রাম্পের নতুন ট্যারিফের ঘোষণা:
যদিও চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবুও ট্রাম্প ভারতের চালের উপর নতুন শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন। এই ধরনের হুমকি সাধারণত আলোচনার টেবিলে নিজেদের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে এই সব শুল্কের বিষয়গুলিও মিটমাট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সংক্ষেপে, এই বাণিজ্য চুক্তিটি কেবল শুল্ক প্রত্যাহারের জন্যই নয়, বরং ভারত-আমেরিকা কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।