‘সমাজের ডাক্তার’ তিনি! বাউল গানে ডেঙ্গু থেকে শৌচালয়, ২২ বছর ধরে সমাজ বদলের অক্সিজেন ছড়াচ্ছেন পুরুলিয়ার বিধান কালিন্দী

পুরুলিয়া জেলার কাশীপুরের বাউল শিল্পী বিধান কালিন্দী টানা ২২ বছর ধরে তাঁর বাউল গানের সুরের মাধ্যমে গ্রামবাংলার মানুষের মনে সামাজিক সচেতনতার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কখনও গ্রামের সরু পথ ধরে, আবার কখনও সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি তুলে ধরেন সমাজ সচেতনতার বার্তা।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ থেকে শুরু করে শৌচালয় ব্যবহারের গুরুত্ব— সব ধরনের সচেতনতামূলক প্রচার তিনি তাঁর গানের সহজ ভাষায় পৌঁছে দেন মানুষের হৃদয়ে। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা আজ এলাকায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। কাশীপুর ব্লকের ভাটিন গ্রামের বাসিন্দা বিধান কালিন্দীর দলে রয়েছেন আরও ছয়জন বাউল শিল্পী, যারা তাঁর গানের সঙ্গে সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দেন।

সরকারি স্বীকৃতিতে উৎসাহ:

বিধান কালিন্দী জানান, “প্রায় ২২ বছর ধরে আমি এই গান গেয়ে আসছি। বর্তমানে আমি এবং আমার দলের সব সদস্যই সরকারি ভাতা পাই। সরকারি সাহায্যের ফলে আমরা পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে এই সচেতনতামূলক গান পরিবেশন করে মানুষকে সচেতন করছি।”

তিনি রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমাদের ভাতা প্রদান ও সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এতে আমাদের শিল্পচর্চা যেমন উৎসাহ পেয়েছে, তেমনই মানুষের সেবায় কাজ করতেও সুবিধা হয়েছে। আমরা চাই, ভবিষ্যতেও সরকার আমাদের পাশে থাকুক।”

সমাজ সচেতনতার দূত হিসেবে বিধান কালিন্দীর সুরের মাধুর্য, কথার গভীরতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা মিলেমিশে তিনি বদলে দিচ্ছেন গ্রামবাংলার জীবনচিত্র। আগামী দিনেও তাঁরা সব জায়গায় গানের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে চান।