সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের তাক লাগানো প্রতিভা, হাইড্রোলিক ব্রিজ থেকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মডেল, প্রদর্শনীতে চমক

শিলিগুড়ির নেতাজি বয়েজ প্রাইমারি স্কুলের পড়ুয়ারা শুধু বইয়ের পাতায় নয়, হাতে-কলমে বিজ্ঞানকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেল। সাধারণত বড় বেসরকারি স্কুলগুলির প্রদর্শনীতে যে ধরনের সৃজনশীলতা দেখা যায়, বৃহস্পতিবার এই ছোট্ট সরকারি স্কুলটি সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে দিল।

স্কুলের মাঠ জুড়ে সাজানো ছিল খুদে বিজ্ঞানীদের তৈরি নানা চমকপ্রদ মডেল— হাইড্রোলিক ব্রিজ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, অটোমেটিক ওয়াটার স্প্রে সহ আরও অনেক কিছু। প্লাস্টিকের বোতল, কাঠের পাটাতন, বাতিল কারেন্ট ওয়্যারের মতো চেনা ও বাতিল উপকরণ ব্যবহার করে এই মডেলগুলি তৈরি করা হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাহায্যে চলেছিল এই প্রস্তুতি। যেন ছোট ছোট হাতগুলো ভবিষ্যতের বিজ্ঞান সমাজের ভিত্তি রচনা করছে।

সীমিত সুযোগে বড় শিক্ষা:

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন দাস বলেন, “বেসরকারি স্কুলের ছাত্ররা উন্নত শিক্ষা পেলেও, সরকারি স্কুলে সাধারণত গরিব পরিবারের বাচ্চারা পড়ে। তবু আমরা তাঁদের যতটা সম্ভব ভালো শিক্ষা দিতে চাই। বিজ্ঞান কীভাবে জীবনের সঙ্গে মিশে আছে, এটাই বুঝিয়ে দিতে এই প্রদর্শনী।”

প্রদর্শনীতে উপস্থিত অতিথিরাও জানান, পরিবেশ, শক্তি, জলের ব্যবহার থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন— সবকিছুর মধ্যেই বিজ্ঞান কাজ করে। সেই ভাবনাটাই ছাত্রদের সামনে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

এই ধরনের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে ছাত্ররাও ছিল দারুণ খুশি। এক ছাত্র সাহেব মোদক জানায়, “প্রথমবার এমন করে বিজ্ঞান নিয়ে ভাবলাম। এত কিছু বানিয়ে খুব আনন্দ হয়েছে। আগামীতে এগুলো অনেক কাজে লাগবে।”

নেতাজি বয়েজ প্রাইমারি স্কুলের এই আয়োজন ছিল সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের সম্ভাবনা, কল্পনা আর সৃজনশীলতার এক নিঃশব্দ ঘোষণা। এটি প্রমাণ করে দিল যে, সীমিত পরিকাঠামো, সীমিত সুযোগের মধ্যেও শিশুদের কৌতূহলকে বড় করে তোলা যায় এবং সুযোগ পেলেই তারা উড়তে পারে।