ক্ষতিপূরণ ও বঞ্চনার অভিযোগে রণক্ষেত্র সিইও অফিস, পুলিশ ও বিএলও-দের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি

ব্লক লেভেল অফিসার (বিএলও)-দের ওপর কাজের প্রচণ্ড চাপ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের (সিইও) দপ্তর চত্বর। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সিইও অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিএলও-রা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন ছিল, কিন্তু বেলা গড়াতেই শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা।
বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ধরে ঠেলাঠেলি শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের প্রবল ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ব্যারিকেডের একদিকে বিক্ষোভকারী বিএলও-রা, অন্যদিকে পুলিশ— এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
বাংলার প্রতি ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ:
বিক্ষোভকারী ‘তৃণমূলপন্থী’ বিএলও অধিকার মঞ্চের মূল অভিযোগ ছিল এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি না করা। এক বিক্ষোভকারী জানান, উত্তরপ্রদেশ-সহ ছয়টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হলেও বাংলাকে এক্ষেত্রে বঞ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এসআইআর (Special Summary Revision)-এর সময় বাড়ানো হল না বাংলায়। নতুন নতুন অপশন তৈরি হচ্ছে, কিন্তু বিএলও-দের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। অনেক মানুষের ফর্ম ফিল আপ এখনও বাকি।”
মৃত বিএলও-দের ক্ষতিপূরণের দাবি:
অন্য এক বিক্ষোভকারী বিএলও অভিযোগ করেন, “তিন জন বিএলও-র মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাতে কমিশনের কোনও হেলদোল নেই। কমিশনের তরফ থেকে নিত্যনতুন নিয়ম জারি করা হচ্ছে, অথচ সময়সীমা বাড়ানো হল না।”
প্রসঙ্গত, বিএলও-দের ওপর যে প্রচণ্ড কাজের চাপ রয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টেও মান্যতা পেয়েছে। শীর্ষ আদালত কমিশনকে বিএলও-দের সহায়তা করার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যের তরফ থেকে মৃত বিএলও-দের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও, কমিশনের তরফ থেকে এখনও কোনও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়নি। এই সমস্ত দাবিতেই এদিন বিএলও-রা বিক্ষোভে শামিল হন।