সোনার ভান্ডার হাতে নিয়েও কাজ বন্ধ! কর্নাটকের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আটকে লিথিয়াম ও স্বর্ণখনির বিপুল সম্ভাবনা

কর্ণাটকে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ খনিজ ভান্ডার (India minerals) আবিষ্কার হয়েছে, যেখানে কেবল সোনা নয়, ব্যাটারি তৈরির জন্য অপরিহার্য লিথিয়ামের চিহ্নও পাওয়া গেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—এই বিপুল খনিজ জমা রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে, যেখানে পরিবেশ আইন অনুযায়ী কোনো ধরনের গভীর খনন করা যায় না। ফলস্বরূপ, বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের এই ‘সোনার ভান্ডার’ (India’s Hidden Mineral Jackpot) আপাতত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
কর্নাটকের খনি ও ভূতত্ত্ব দফতর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ৬ লক্ষ হেক্টর এলাকা জুড়ে পরিচালিত একটি বড় রেকি অভিযানে ৬৫টি ব্লকে খনিজ থাকার সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া হলো কপ্পাল জেলার অমরাপুর ব্লক। সেখানকার পৃষ্ঠের নমুনায় প্রতি টনে ১২–১৪ গ্রাম সোনা পাওয়া গেছে, যা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক মাত্রার (২–৩ গ্রাম/টন) প্রায় চার থেকে সাত গুণ বেশি! অর্থাৎ, এই অঞ্চলে একটি অত্যন্ত বড় সোনার খনি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাটারি শিল্পের জন্য লিথিয়ামের খোঁজ
এদিকে, রায়চুর জেলার অমরেশ্বর ব্লকে প্রথমবার লিথিয়ামযুক্ত শিলা (পেগমাটাইট) পাওয়া গেছে। এর আগে দেশের মাত্র কয়েকটি জায়গায় (জম্মু-কাশ্মীর ও ছত্তীসগঢ়) এই ধরনের লিথিয়ামের খোঁজ মিলেছিল। এবার সেই তালিকায় কর্নাটকও যুক্ত হলো, যা ভবিষ্যতের ব্যাটারি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) শিল্পে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
খনন বন্ধের কারণ: বন ও পরিবেশ
এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও খনন বন্ধ রয়েছে কারণ সমস্ত খনিজ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পড়ে। এখানে গভীর খনন বা ড্রিলিং করতে হলে কেন্দ্রের পরিবেশ মন্ত্রকের স্টেজ-ওয়ান ফরেস্ট ক্লিয়ারেন্স আবশ্যক, যা এখনও মেলেনি।
স্থানীয় বনবিভাগ এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলি জানিয়েছে, এই এলাকাটি বন্যপ্রাণীদের বিচরণ ক্ষেত্র এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড়সড় খনন শুরু হলে পশ্চিমঘাট-সংলগ্ন এই অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে অনুমতি না থাকায় ১০–২০ মিটারের বেশি ড্রিলিং বা খনিজের সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা যাচ্ছে না।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় বেআইনি খনিজ অনুসন্ধানের চেষ্টা রুখতে রাজ্য সরকার ওই এলাকায় সশস্ত্র বনরক্ষী ও সিসিটিভি বসিয়েছে। রাজ্য সরকার (Karnataka Govt) এখন কেন্দ্রের অনুমতির জন্য প্রস্তাব প্রস্তুত করছে। তবে অনুমতি মিললেও খননকাজ শুরু হতে ২০২৬-এর মাঝামাঝি এবং বাণিজ্যিক খনি চালু হতে আরও ৫ থেকে ৮ বছর সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত কর্নাটকের এই বিপুল ‘মিনারেল জ্যাকপট’ মাটির নীচেই সংরক্ষিত থাকবে।