‘PM-CM নির্বাচন করবে না’, অনুপ্রবেশকারীদেড় তাড়াতে 3D নীতি অমিত শাহের

অনুপ্রবেশকারী প্রশ্নে লোকসভাতেও সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বিরোধীদের কড়া আক্রমণ শানান এবং অনুপ্রবেশ রুখতে সরকারের বিখ্যাত ‘3D’ নীতির কথা উল্লেখ করেন।

অমিত শাহ বলেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত অনুপ্রবেশকারীরা নেবে না।” এরপরই তিনি সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (সনাক্ত করব, ডিলিট করব এবং বহিস্কার করব) নীতির কথা উল্লেখ করে মনে করিয়ে দেন, “এক একজন অনুপ্রবেশকারীকে সনাক্ত করব। তারপর ডিলিট এবং ডিপোর্ট।”

নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে শাহের সাফাই

নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে বিতর্ক না করার কারণে বিরোধীরা যে অভিযোগ তুলেছিল, এদিন তারও জবাব দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “একটা ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যে আমরা আলোচনা চাই না! বিজেপি এবং এনডিএ, কখনও বিতর্ক থেকে পিছপা হয়নি। সংসদ হল সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা।”

তবে কেন এই বিষয়ে সরকার বিতর্ক চায়নি, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শাহ স্পষ্ট করেন, এটা নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার। যেহেতু নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা, তাই বিতর্কের উত্তর দেওয়ার অধিকারও তাদের। শাহ মনে করিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে সংবিধানের ৩২৪ ধারা। মণীশ তিওয়ারির বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে শাহ আরও বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে, যা সংবিধানে ৩২৭ ধারায় দেওয়া আছে।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কাঠগড়ায় বাংলা

বাংলায় অনুপ্রবেশের জন্য তৃণমূল সরকার প্রায়শই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে দায়ী করে প্রশ্ন তোলে, কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশিরা ঢুকছে? এদিন লোকসভায় তার জবাব দিলেন অমিত শাহ।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ২২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫৩ কিলোমিটারে বেড়া দেওয়া হয়েছে। বাকি খালি ৫৬৩ কিলোমিটার। এই পুরোটাই বাংলায়।

কেন এই ৫৬৩ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে শাহ সরাসরি তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তোলেন। তাঁর শেষ হুঁশিয়ারি, “অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে চাইলে বাংলায় বিজেপির জয় নিশ্চিত।”