গোষ্ঠী কোন্দলের বলি তৃণমূল কর্মী, মন্ত্রীর বইমেলায় যাওয়া নিয়ে বচসা, চায়ের দোকানে নেতার ঘুষিতে মৃত্যু মেমারিতে

চাঞ্চল্যকর ঘটনা পূর্ব বর্ধমানের মেমারি-২ ব্লকের বড় পলাশন এলাকায়। চায়ের দোকানে বচসার জের ধরে লালটু সিকদার (৬৬) নামে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে মারধর করে খুনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তারু শেখের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, লালটু সিকদার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মঙ্গলবার তিনি সাতগেছিয়াতে মন্ত্রীর বইমেলার অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, এই কারণে লালটুকে টিটকিরি ও হুমকি দিতে শুরু করেন ইসমাইল গোষ্ঠীর লোক বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা তারু শেখ।

বুধবার সকালে বড় পলাশন এলাকায় ফের লালটু সিকদারের সঙ্গে তারু শেখের তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। মৃতের মেয়ে জাহানারা বেগমের অভিযোগ, উত্তর দেওয়ার সময় তারু শেখ তাঁর বাবা লালটুর বুকে সজোরে ঘুষি মারেন। ঘুষির আঘাতেই লালটু সিকদার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃতের পরিবার সরাসরি তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলকে এই ঘটনার কারণ হিসেবে দায়ী করেছে। লালটু সিকদারের স্ত্রী আঞ্জুরা সুলতানা বলেন, “আমার স্বামী তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ছিলেন। আমার স্বামীকে যে খুন করেছে, আমি তার শাস্তি চাই। আমি এখন কার কাছে থাকব, কী খাবো জানি না।”

দীর্ঘদিন ধরে লালটু সিকদার ও তারু শেখের গোষ্ঠীর মধ্যে কোন্দল চলছিল। মঙ্গলবার রাতে একপ্রস্থ বচসার পর বুধবার সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

মেমারি থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে তারু শেখের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুরবাহ শেখও এই ঘটনায় দু’জনের মধ্যে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01