“নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করছে বিজেপি-আরএসএস”, লোকসভায় রাহুলের ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগ; নিশিকান্ত দুবের পাল্টা জবাব

নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে লোকসভায় আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার বিজেপি-আরএসএস জোটের বিরুদ্ধে “প্রতিষ্ঠান দখল” এবং “ভোট চুরি”র গুরুতর অভিযোগ এনে বিতর্কে ঝড় তোলেন। তিনি দাবি করেন, ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি গভীর সাংবিধানিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, যার মূলে রয়েছে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা।

রাহুল গান্ধী সরাসরি অভিযোগ করেন যে শাসক দল নির্বাচন কমিশনের (EC) সঙ্গে আঁতাত করে দেশজুড়ে ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে। তিনি বলেন, “ভারত শুধু বৃহত্তম নয়, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গণতন্ত্র। আর সেই শ্রেষ্ঠ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন।” ভোটার কারচুপির প্রমাণ হিসেবে তিনি হরিয়ানার উদাহরণ টেনে বলেন, ভোটার তালিকায় এক ব্রাজিলিয়ান মডেলের নাম ২২ বার এবং এক ভোটারের নাম ২০০ বারের বেশি পাওয়া গেছে—যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনার অংশ।

তিনি সরকারকে তিনটি সরাসরি প্রশ্ন করেন: ১. প্রধান বিচারপতিকে অপসারণ: নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটি থেকে কেন প্রধান বিচারপতিকে সরানো হলো? এর ফলে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা চাইছেন, সেটাই কার্যকর হচ্ছে। ২. আইনি ছাড়: নির্বাচন কমিশনারদের যেকোনো আইনি দায় থেকে ব্যাপক সুরক্ষা দেওয়ার ২০২৩ সালের সংশোধনী কেন আনা হলো? তাঁর মতে, এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। ৩. সিসিটিভি ফুটেজ: ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় নষ্ট করে দেওয়ার নিয়ম কেন রাখা হয়েছে? তাঁর দাবি, “স্টোরেজ সমস্যা”র যুক্তি দিয়ে ভোট “চুরি” করার কৌশল এটা।

রাহুল গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প প্রস্তাব রাখেন: ভোটের এক মাস আগে মেশিনে পাঠযোগ্য ভোটার তালিকা সব দলকে দেওয়া, সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করার আইন প্রত্যাহার, ইভিএমের প্রযুক্তিগত নকশা প্রকাশ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা, এবং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা তুলে নেওয়া। তিনি কমিশনকে সতর্ক করে বলেন, “আমরা আপনাদের খুঁজে বের করব” এবং ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তন করা হবে, যা প্রয়োজনে অতীতেও প্রয়োগ হতে পারে।

যদিও রাহুলের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন এবং বলেন, ইভিএম তো কংগ্রেসই এনেছিল। তিনি দাবি করেন, বিজেপি শুধু বহু পুরনো একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, আর বিরোধীরা সম্ভাব্য পরাজয়ের অজুহাত হিসেবে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে চাইছে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01