“তাঁর মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না”, মালদহ রেল কলোনিতে শোক, ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে মৃত্যুর আসল কারণ

উৎসবের বাড়িতে আচমকাই নেমে এল বিষাদের ছায়া। মালদহের ইংরেজবাজার শহরের জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুইমিংপুল মাঠে এক সহকর্মীর ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হলো পূর্ব রেলের এক কর্মীর। মৃত ওই রেল কর্মীর নাম সৌরভকুমার আনন্দ (৪৮)।
পুলিশ ও রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌরভকুমার আনন্দ উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের বাসিন্দা হলেও, তাঁর বাবা-মা রেলে কর্মরত থাকার সুবাদে প্রায় ৪০ বছর ধরে শহরের ঝলঝলিয়ার রেল কলোনিতে থাকতেন। তিনি পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশন অফিসে ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
সহকর্মীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন সৌরভ। রাত ৯টা নাগাদ রাতের খাবার খাওয়ার পর তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দ করে নাচানাচি করছিলেন। ঠিক সেই সময় আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সৌরভকুমার। তড়িঘড়ি তাঁকে প্রথমে একটি নার্সিংহোম এবং পরে রেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”
মৃতের সহকর্মী সুজিত দাস গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “সবাই একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে আনন্দ করছিলাম। হঠাৎ করে সৌরভ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হলো না। তাঁর মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।” পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশনের ডিআরএম মনীশকুমার গুপ্ত এই ঘটনাকে “খুবই দুঃখজনক” বলে মন্তব্য করেছেন এবং জানিয়েছেন, তাঁরা পরিবারের পাশে আছেন। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।