মহিলাকে কটূক্তির প্রতিবাদ, মালদহে মাসতুতো ভাইদের ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম একই পরিবারের তিনজন; গ্রেফতার এক

পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মালিওর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ তালশুড় কাশ্মিরটোলা এলাকায়। এক মহিলাকে কটূক্তি করার প্রতিবাদ করায় মঙ্গলবার রাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন একই পরিবারের তিনজন। তিনজনই বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আহতরা হলেন দুই ভাই আব্দুল আলিম ও আলাউদ্দিন সেখ এবং আলাউদ্দিনের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে মানুয়ারা খাতুন। মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে তিন ভাই সরিফ আলি, মহম্মদ শুকুরুদ্দিন ও নজরুল হক-সহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা সম্পর্কে আহতদের মাসতুতো ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে। আলাউদ্দিনের ১৩ বছর বয়সী ছেলে আকমল হোসেন মাঠে ধান দেখতে গেলে অভিযুক্ত সরিফ তাঁকে লক্ষ্য করে তাঁর মাকে নিয়ে নোংরা কটূক্তি করেন। কিশোর বাড়িতে ফিরে তার মাকে বিষয়টি জানালে সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন প্রতিবাদ করতে যান। তখনই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয় এবং তা দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়।
অভিযোগ, সরিফ আলি ও তাঁর ভাইয়েরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আলাউদ্দিন ও তাঁর পরিবারের ওপর চড়াও হন এবং এলোপাথাড়িভাবে কোপাতে শুরু করেন। এই ঘটনায় আব্দুল আলিম, আলাউদ্দিন সেখ এবং মানুয়ারা খাতুন গুরুতর জখম হন।
পরিবারের লোকজন দ্রুত তাঁদের হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও, আশঙ্কাজনক অবস্থার কারণে তাঁদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁরা চিকিৎসাধীন।
ঘটনার খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে নজরুল হকের স্ত্রী সায়েরা বিবিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরিফ আলি যদিও কটূক্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অন্য অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।