বাবরি মসজিদ নয়, আসল কারণ অন্য! হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করার নেপথ্যের ‘আসল খেলা’ ফাঁস করলেন কুণাল ঘোষ!

মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। হুমায়ুন দাবি করছিলেন, বাবরি মসজিদ তৈরির জন্যই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, কিন্তু কুণাল ঘোষ এই দাবির নেপথ্যের ‘আসল খেলা’ তুলে ধরেছেন।

ধর্মীয় ইভেন্ট না রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?

কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেন যে, শুধুমাত্র মসজিদ, মন্দির বা গির্জা তৈরির জন্য তৃণমূল কংগ্রেস কখনও কাউকে বহিষ্কার করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তাহলে হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করার কারণ কী?

কুণাল ঘোষের দাবি, বিষয়টি ধর্মের ছিল না, বরং ছিল সংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজের:

“যদি কোনও ব্যক্তি অন্য রাজনৈতিক দলের চক্রান্তের ফাঁদে পা দিয়ে ধর্মের মোড়কে সেই ধর্মকেন্দ্রিক কোনও ইভেন্টকে দিয়ে ভোটের রাজনীতির বিষাক্ত মেরুকরণের মায়াজাল তৈরি করতে চান এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেন… তিনি যদি দলবিরোধী কাজ করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টা আর ধর্মের বলে থাকে না।”

হুমায়ুনের প্রতি কুণালের বার্তা:

কুণাল ঘোষ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হুমায়ুন কবীর তাঁর মসজিদ তৈরির সিদ্ধান্তকে একটি ‘রাজনৈতিক ইভেন্টে’ পরিণত করেছেন, যা দলের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন:

“তৃণমূল কংগ্রেস সব ধর্মকে সম্মান করে। কিন্তু, কিছু লোক যখন ধর্মের নামে রাজনৈতিক ইভেন্ট করে, যেমন অমুক কণ্ঠে গীতা পাঠ। তখন আমরা গীতার বিরোধিতা করি না। ওই ইভেন্টের বিরোধিতা করার অবকাশ থাকে। তেমনই কেউ মসজিদ তৈরি করলে করতেই পারেন। কিন্তু, সেটা যদি অন্য রাজনৈতিক দলের চক্রান্ত কিংবা প্ররোচনার ফাঁদে পড়ে একটি রাজনৈতিক ইভেন্টে পরিণত হয় ও তার উদ্দেশ্য অন্য কিছু থাকে, সেক্ষেত্রে সেটা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পর্যবেক্ষণের আওতায় পড়ে যায়।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “যদি কেউ বলেন, আমাকে অমুক তৈরির জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে, সেটা একদম মিথ্যা কথা। মন্দির, মসজিদ তৈরির জন্য তৃণমূল ব্যবস্থা নেয়নি, নেবে না।”

অর্থাৎ, কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তটি তাঁর বাবরি মসজিদ তৈরির সিদ্ধান্তের জন্য নয়, বরং ধর্মকে ব্যবহার করে ‘ভোটের রাজনীতির বিষাক্ত মেরুকরণ’ এবং দলবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার ফলেই নেওয়া হয়েছে।