সৌন্দর্যে ঈর্ষা! চার-চারটি খুনের মাস্টারমাইন্ড খোদ বাড়ির বউ, কেন পরপর মরল নিষ্পাপ শিশুরা?

গত দু’বছরে একই পরিবারের চারটি নিষ্পাপ শিশুর রহস্যজনক অস্বাভাবিক মৃত্যু। প্রতিবারই অন্ধকারে ছিল পুলিশ, কোনও সূত্রই হাতে আসছিল না। জলের গামলা থেকে দেহ উদ্ধার, প্রতিবেশীর স্টোর রুমে নিথর শরীর—এমন বীভৎস ঘটনার কারণ নিয়ে যখন গোটা পরিবার দিশাহারা, ঠিক তখনই চতুর্থ খুনের তদন্তে উঠে এল এক হাড়হিম করা সত্য। এই সিরিয়াল কিলিংয়ের নেপথ্যে রয়েছে স্বয়ং বাড়ির বউ পুনম!

পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত পুনম নিজের রূপ নিয়ে হীনমন্যতায় (কমপ্লেক্স) ভুগতেন। তিনি চাননি পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের কেউ তাঁর চেয়ে বেশি সুন্দরী হোক। আর এই ভয়ংকর ঈর্ষার জেরেই তিনি নিজের ছেলে-সহ মোট চার শিশুকে নৃশংসভাবে খুন করেছেন বলে অভিযোগ।

এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের তালিকা শুরু হয় পুনমের ননদের ৯ বছরের মেয়ে ইশিকাকে দিয়ে। প্রথম খুনটি নিয়ে পরিবারে সন্দেহ দানা বাঁধতেই পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য পুনম পরের বছরই নিজের চার বছরের ছেলেকেও খুন করেন বলে জেরায় স্বীকার করেছেন। আততায়ীর এই কৌশলকে পুলিশি পরিভাষায় ‘রেড হেরিং’ বলা হয়।

এরপর একই কারণে খুন হন আট বছরের জিয়া। এই সিরিয়াল কিলিংয়ের সাম্প্রতিকতম শিকার ছিল দুই বছরের বিধি। বিধির অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তাঁর বাবা পুলিশকে জানান, এর আগে একবার তিনি পুনমকে মেয়ের মুখে কেটলি থেকে গরম চা ঢেলে দিতে দেখেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ পুনমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই ভেঙে পড়েন তিনি। পুনম স্বীকার করেন, বিধিকে প্রথমে তিনি আত্মীয়ের বাড়ির স্টোর রুমে নিয়ে গিয়ে জলের গামলায় চুবিয়ে মেরেছিলেন।

পুলিশের দাবি, সৌন্দর্যের এই ভয়ানক ঈর্ষা থেকেই তিনি চার সন্তানকেই খুন করেছেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে পুনমের কঠোরতম শাস্তি, অর্থাৎ ফাঁসির দাবি জানানো হয়েছে।