আর ঘষাঘষি নয়, শুয়ে শুয়ে স্নান! ওসাকা এক্সপোতে সাড়া ফেলল জাপানের ‘হিউম্যান ওয়াশিং মেশিন’, মিলবে ১০০% পরিচ্ছন্নতার গ্যারান্টি

এবার থেকে আর ঘষে ঘষে শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে বা বাথটাবের জলে চুবে স্নান করতে হবে না। স্নানের অভিজ্ঞতাকে আমূল পাল্টে দিতে জাপানের প্রযুক্তি সংস্থা সায়েন্স (Science) তৈরি করেছে ‘হিউম্যান ওয়াশিং মেশিন’ বা ‘মানুষ ধোয়ার যন্ত্র’। ওসাকার ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে যা রীতিমতো নজর কেড়েছে।

ডিভাইসের কার্যকারিতা ও কাঠামো

যন্ত্রটি দেখতে ২-৩ মিটার লম্বা একটি ঘেরা ক্যাপসুলের মতো। ব্যবহারকারীকে এর মধ্যে ঢুকে শুয়ে পড়তে হবে এবং ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে। এরপরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করবে মেশিনটি।

১. স্বয়ংক্রিয় পরিষ্করণ: এই মেশিনে মাইক্রোবাবল (Microbubble) এবং একটি সূক্ষ্ম মিস্ট শাওয়ার (Mist Shower) ব্যবহার করা হয়, যা ব্যবহারকারীকে কোনও ঘোরপাক না খাইয়ে আলতো করে পুরো শরীর পরিষ্কার করে। কোম্পানি শতভাগ পরিষ্কারের গ্যারান্টি দিয়েছে। ২. আরামদায়ক পরিবেশ: শরীর ধোয়ার সময় ক্যাপসুলের মধ্যে প্রশান্তিদায়ক দৃশ্য এবং গান শোনার ব্যবস্থা থাকে, যা ব্যবহারকারীকে প্রশান্তি দেয়। ৩. স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ: এটি কেবল শরীরই পরিষ্কার করে না, বরং ‘আত্মাকেও ধৌত করে’—যেমনটি বলেছেন কোম্পানির মুখপাত্র সাচিকো মায়েকুরা। যন্ত্রটি স্নানের পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দন এবং গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলি ট্র্যাক করার জন্য সেন্সর ব্যবহার করে, যা সুরক্ষাও নিশ্চিত করে। ৪. শুকানোর ব্যবস্থা: শরীর ধোয়ার পর গা মোছার ঝঞ্ঝাট নেই। মেশিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীকে শুকিয়ে দেবে। তোয়ালে বা সাবান মাখার ঝনঝাট এখানে নেই, মাত্র ১৫ মিনিটেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হবে।

এই যন্ত্র তৈরির ধারণা প্রথম এসেছিল ১৯৭০ সালে। গত ৬ মাস ধরে জাপানের প্রযুক্তি মেলায় এই যন্ত্রটি রীতিমতো হটকেক ছিল এবং ২৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ যন্ত্রটি দেখেছেন। প্রথম লটটি ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে এবং ওসাকার একটি হোটেল সংস্থা তাদের গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য এটি কিনেছে। সায়েন্স সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা প্রচুর নতুন অর্ডারও পাচ্ছে।