৬ষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে ভারতকে যোগদানের ঐতিহাসিক প্রস্তাব ইউরোপের, বিনিয়োগ হতে পারে ৮ বিলিয়ন ডলার

বিশ্ব যখন পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট (5th Generation Fighter Jet) নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান (6th Generation Jet) তৈরির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য এক যুগান্তকারী সুযোগ এনে দিল এক ইউরোপীয় দেশ। ভারতের সস্তা এবং শক্তিশালী দেশীয় প্রযুক্তির প্রতি আস্থা রেখে তারা যৌথভাবে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে ভারতকে পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে IDRW (Indian Defence Research Wing) জানিয়েছে, ইউরোপীয় দেশটি ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে যোগদানের প্রস্তাব দিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই প্রস্তাবটি কেবল একজন পর্যবেক্ষক হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতকে একটি পূর্ণাঙ্গ অংশীদার দেশ হওয়ার সুযোগ দেয়।

কেন ইউরোপ ভারতকে অংশীদার করতে চায়?

বর্তমানে বিশ্বে তিনটি ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি হচ্ছে—একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, একটি চিন এবং অন্যটি বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের যৌথ উদ্যোগে। এই তৃতীয় কর্মসূচিতে ভারতকে তাদের অংশীদার করার প্রধান কারণ হলো ভারতের শক্তিশালী প্রযুক্তিগত ভিত্তি এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যয়-সাশ্রয়ী হওয়ার ক্ষমতা।

প্রস্তাবের আর্থিক ও কৌশলগত দিক:

বিনিয়োগ: প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে ভারতকে ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় $7-8 Billion) আর্থিক অবদান রাখতে হতে পারে। এই তহবিল গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) এবং শিল্প অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহার করা হবে।

উৎপাদন লক্ষ্য: পরিকল্পনা হল ২০৪০ সালের মধ্যে এই ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের উৎপাদন শুরু করা। এরপর দীর্ঘমেয়াদী যৌথ উৎপাদন এবং পরিচালন অংশীদারিত্ব চলবে।

বিতরণকৃত উৎপাদন মডেল: প্রস্তাবিত অংশীদারিত্ব কাঠামোর মধ্যে একটি ‘বিতরণকৃত উৎপাদন মডেল’ (Distributed Production Model) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর অর্থ হলো, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, মডিউল বা উপাদান তৈরির দায়িত্ব নেবে। এটি ভারতকে প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে শিল্প সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ভবিষ্যতের সহায়তা ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে।

যদি ভারত এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়, তবে এটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে দেশের আত্মনির্ভরতা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এক বিশাল পদক্ষেপ হবে।