‘এক কাপড়ে চলে এসেছিলাম, ৩৫ বছর পর স্বস্তি’! কট্টরপন্থীদের অত্যাচারে দেশ ছেড়ে CAA-তে নাগরিকত্ব পেলেন লাতুরাম-পদ্ম সিকদার

তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে সিএএ-কে (CAA) ‘ভাঁওতা’ বলে আক্রমণ করছে, অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দিতে তারা বদ্ধপরিকর। এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা পরিমার্জনার আবহে যখন এই নিয়ে রাজনৈতিক কাটাছেঁড়া তুঙ্গে, সেই সময় নদীয়ার রানাঘাটে নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন এক বাংলাদেশি দম্পতি।
লাতুরাম ও পদ্ম সিকদারের স্বস্তি
নদীয়ার তাহেরপুর থানার অন্তর্গত কামগাছি জয়পুরের বাসিন্দা লাতুরাম সিকদার এবং তাঁর স্ত্রী পদ্ম সিকদার কয়েক বছর আগে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসেন। তাঁরা জানিয়েছেন, কট্টরপন্থীদের অত্যাচারে ৩৫ থেকে ৩৬ বছর আগে কার্যত ‘এক কাপড়ে’ তাঁরা এদেশে এসে বসবাস শুরু করেন।
আবেদন ও প্রাপ্তি: এই দম্পতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী সিএএ ক্যাম্পে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন ১০ অক্টোবর। মাত্র এক মাসের মধ্যেই, ১৯ নভেম্বর তাঁদের হাতে এসে পৌঁছয় ভারতীয় নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট।
জানা যাচ্ছে, তাঁদের কাছে আগে থেকেই ভারতীয় আধার কার্ড ছিল। তবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় এসআইআর-এর সময় তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। এবার নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পাওয়ায় তাঁরা শুধু স্বস্তিতেই নন, আগামী নির্বাচনে অংশ নিতেও পারবেন।
দম্পতির প্রতিক্রিয়া ও বিজেপি নেতার বার্তা
নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেয়ে পদ্ম সিকদার বলেন, “আমরা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। সেই শংসাপত্র আমরা হাতে পেয়েছি। আমরা খুব খুশি এবং সকলকে অনুরোধ করব কেন্দ্র সরকার যে প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্বের আবেদন পূরণ করতে বলছে সকলে তা করুন।”
লাতুরাম সিকদার বলেন:
“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো বলেইছিলেন যে হিন্দু শরণার্থীদের বাংলাদেশ যেতে হবে না। আমাদের যদি নাম নাও থাকে তাহলেও আমরা নাগরিকত্বের আবেদন করলে কার্ড পাব। এই CAA কার্ডের মধ্যে দিয়ে আমরা ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব পাব। আমাদের অনেকের হেয়ারিং হয়েছে। আর হেয়ারিং হওয়ার পরই কার্ড চলে আসছে।”
রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথী চ্যাটার্জি এই ঘটনাকে সমর্থন করে বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই জানিয়েছিলাম যে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই দুই দম্পতি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আগামী দিনে যারা আবেদন করবেন তারাও নাগরিকত্ব পাবেন।” উল্লেখ্য, এর আগে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহত বিতান অধিকারীর স্ত্রীও ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন।