ইমরান খান কি সত্যিই মারা গেছেন? জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দুনিয়াজুড়ে জল্পনা, মুখ খুললেন বোন

পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে রহস্য ও জল্পনা চরমে। তিনি কোথায়, কী অবস্থায় আছেন—তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি ইমরানের বোনরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের বাইরে জড়ো হলে তাঁরা চরম হেনস্থার শিকার হন। তাঁদের চুল ধরে টেনে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
২০২৩ সাল থেকে একাধিক মামলায় জেলবন্দি ইমরান খানকে ‘আইসোলেশনে’ (Isolation) রাখা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে গুজব ছড়ায় যে জেলেই নাকি তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তাই কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এএনআই-এর কাছে বিস্ফোরক ইমরানের বোন
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর কাছে মুখ খুলেছেন ইমরানের বোন নওরীন নিয়াজি, যিনি বর্তমান পাক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “পুরুষ-মহিলা কিছুই মানা হচ্ছে না… পাকিস্তানে মেয়েদের সঙ্গে এমন দমন-পীড়ন আগে কখনও হয়নি, একেবারে হিটলারের যুগের মতো অত্যাচার চলছে।”
নওরীন নিয়াজি অভিযোগ করেন যে পাকিস্তান এখন তার সবচেয়ে অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকদের বিনা কারণে হত্যা করা হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে এবং জেলে পাঠানো হচ্ছে। ইমরানের মৃত্যু-সংবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তো শুনছি ভারত থেকে প্রথম ইমরানের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর ছড়ায়, জানি না এ খবর তারা কোথা থেকে পেল। আমরা গত চার সপ্তাহ ধরে সেখানে যাচ্ছি। আর ওরা আমাদের সঙ্গে ইমরানকে দেখা করতে দিচ্ছে না। এই কারণেই এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে।”
‘আইসোলেশনে’ রাখার নিয়ম লঙ্ঘন
নওরীন নিয়াজির অভিযোগের মূল তির সামরিক প্রধান আসিম মুনীরের দিকে। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানে এই প্রথমবার শিশু-বৃদ্ধ, কিছুই পরোয়া করা হচ্ছে না। তিনি হিটলারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “সেসময় যেভাবে মানুষকে বেসমেন্টে টেনে নিয়ে যাওয়া হত, এখানে তারই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় ধরে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী ৪ দিনের বেশি এভাবে কাউকে রাখা যায় না, সেখানে তাঁকে গত বছরও তিন সপ্তাহ ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছিল। তিনি যেখানে ছিলেন, সেখানে বিদ্যুৎ ছিল না, খবরের কাগজ দেওয়া হয়নি এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বর্তমানে কেমন আছেন, তা কেউ জানে না। নওরীন নিয়াজির মতে, দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত। এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি কোনো মানুষের সমর্থন নেই। মানুষ এখন শুধুমাত্র একটি আগুনের ফুলকির অপেক্ষায় রয়েছে।