জন্ডিসে গণ-সংক্রমণ ও মৃত্যুর অভিযোগ! মধ্যপ্রদেশের ভিআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের ব্যাপক বিক্ষোভ, আচার্যের বাংলোতে ভাঙচুর

জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার ক্রমবর্ধমান ঘটনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশের ভিআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। মঙ্গলবার রাতে ভোপালের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা আচার্যের বাংলোতে ভাঙচুর চালান এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে-বাইরে বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

ক্ষোভের কারণ: হস্টেলের নিম্নমানের খাবার ও স্বাস্থ্যবিধি
ইনদওর–ভোপাল হাইওয়ের ধারে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ছাত্রছাত্রী জন্ডিসে আক্রান্ত হচ্ছিলেন এবং প্রায় ২৪ জন একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি গুরুতর আকার নেয়।

পড়ুয়াদের দাবি: হস্টেলের খাবারের নিম্নমান, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং নোংরা পরিবেশের কারণেই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে।

মর্মান্তিক অভিযোগ: ছাত্রছাত্রীদের দাবি, গত মাসেই জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই গণ-বিক্ষোভ শুরু হয়।

মধ্যরাতের তাণ্ডব ও ভাঙচুর
মঙ্গলবার মধ্যরাতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা দুইটি গাড়ি, একটি বাস, একটি অ্যাম্বুল্যান্স ও কয়েকটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেন। উত্তেজিত জনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের বাংলোর কিছু অংশও ভাঙচুর করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পরে আরএসএস–ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন এবিভিপি’র (ABVP) কর্মীরা এগিয়ে আসেন। অন্যদিকে, সেহোরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে ক্যাম্পাস ঘিরে ফেলে।

তবে এই ঘটনা নিয়ে রাতভর উত্তেজনার পরও ভিআইটি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি।