তথ্য জানার অধিকার আইনের বাইরে চলে গেল বিশ্বের ধনী ক্রিকেট বোর্ড! বিসিসিআই-এর বড় জয়ে এবার কী হবে?

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) অভ্যন্তরীণ বিষয়, আর্থিক লেনদেন কিংবা দল নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহলের শেষ নেই। কিন্তু এবার সেই সমস্ত তথ্যের ওপর একপ্রকার গোপনীয়তার সিলমোহর পড়ে গেল। এক ঐতিহাসিক রায়ে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন (CIC) স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড কোনও ‘পাবলিক অথরিটি’ বা সরকারি সংস্থা নয়। ফলে, তথ্যের অধিকার আইনের (RTI) আওতায় এনে বিসিসিআই-এর কাছ থেকে জোর করে কোনও অভ্যন্তরীণ তথ্য জানতে চাওয়া যাবে না।
কমিশনের এই নতুন নির্দেশিকার পর স্পষ্ট হয়ে গেল যে, বিসিসিআই যদি নিজেদের কোনও নথিপত্র বা সিদ্ধান্ত গোপন রাখতে চায়, তবে তা জানার কোনও আইনি অধিকার সাধারণ মানুষের থাকবে না। তথ্য কমিশনার পি আর রমেশের একক বেঞ্চ এই সংক্রান্ত একটি দীর্ঘদিনের পুরনো মামলার নিষ্পত্তি ঘটিয়ে সোমবার এই রায় দেন। এর ফলে ২০১৮ সালের একটি পুরনো নির্দেশ পুরোপুরি খারিজ হয়ে গেল, যেখানে তৎকালীন কমিশন বিসিসিআই-কে আরটিআই-এর আওতায় আনার কথা বলেছিল।
আদালত ও কমিশন সূত্রের খবর, দিল্লি নিবাসী গীতা রানি নামের এক মহিলার আবেদনের ভিত্তিতে এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, কোন আইন বা অধিকার বলে বিসিসিআই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নির্বাচন করে? পরবর্তীতে এই মামলা মাদ্রাজ হাইকোর্ট হয়ে পুনরায় কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের কাছে ফিরে আসে।
এবারের পুঙ্খানুপুঙ্খ শুনানির পর কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, বিসিসিআই মূলত তামিলনাড়ু সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে নিবন্ধিত একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। এটি দেশের সংবিধান, সংসদ কিংবা কোনও সরকারি নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তৈরি হয়নি। সবথেকে বড় কথা, বিশ্বের এই ধনীতম ক্রিকেট বোর্ডটি পরিচালনার জন্য ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনও আর্থিক অনুদান বা প্রত্যক্ষ সাহায্য নেয় না। যেহেতু সরকারের কোনও আর্থিক অংশীদারিত্ব বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এর ওপর নেই, তাই এটিকে আরটিআই আইনের ২(এইচ) ধারা অনুযায়ী সরকারি সংস্থা হিসেবে গণ্য করা অসম্ভব।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে বিসিসিআই এক বিরাট আইনি যুদ্ধে জয়লাভ করল এবং তাদের প্রশাসনিক স্বাধীনতায় বড়সড় স্বস্তি মিলল। তবে ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বোর্ডের দল নির্বাচন প্রক্রিয়া, কোটি কোটি টাকার আইপিএল (IPL) চুক্তি বা অভ্যন্তরীণ খরচের খতিয়ান নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তোলার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। দেশের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ক্রিকেট বোর্ডকে স্বচ্ছতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর যে আইনি চেষ্টা এতদিন চলছিল, তাতে আপাতত বড়সড় দাঁড়ি পড়ে গেল।