নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও দুর্গাপুর নগর নিগমের গ্যারেজে দুষ্কৃতী তাণ্ডব! চুরি গেল একাধিক গাড়ির লক্ষাধিক টাকার যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি!

দুর্গাপুর নগর নিগমের গ্যারেজে ঢুকে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় একাধিক গাড়ির ব্যাটারি-সহ লক্ষাধিক টাকার যন্ত্রাংশ চুরি গিয়েছে। যেখানে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োজিত ছিলেন, সেখানে এই চুরির ঘটনায় গ্যারেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্গাপুরের ভগৎ সিং ক্রীড়াঙ্গণের পেছনে অবস্থিত এই গ্যারেজে নগর নিগমের বর্জ্যবাহী গাড়ি, রক্ষণাবেক্ষণের গাড়ি এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের গাড়ি মিলিয়ে প্রায় ৩০০ গাড়ি রাখা হয়। এই চুরির পর বিরোধীরা সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে, এই চুরির পিছনে নগর নিগমের কোনো কর্মীর হাত নেই তো?
ঘটনাক্রম ও অভিযোগ
চুরির ঘটনা: রবিবার সকালে নগর নিগমের কর্মীরা দেখেন, দুটি ট্রাক্টর এবং দুটি ডাম্পারের ব্যাটারি উধাও। এরপরেই নিগমের আধিকারিকদের খবর দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগ: রবিবার রাতে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার ফাঁড়িতে নগর নিগমের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
চালকের বক্তব্য: দুর্গাপুর নগর নিগমের গাড়ির চালক প্রণব মাইতি বলেন, “গ্যারেজের প্রাচীরগুলো এখনও অসমাপ্ত। তবে নিরাপত্তারক্ষী এবং গানম্যান আছে। চার-পাঁচটা গাড়ির ব্যাটারি চুরি হয়ে গিয়েছে। গাড়ি চালাতে এসে আজ এই ঘটনা শুনে হতবাক আমরা।”
পুলিশ ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
এসিপি দুর্গাপুর সুবীর রায় জানান, সিটি সেন্টার ফাঁড়ির ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে।
অন্যদিকে, দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রাক্তন পুরপিতা তথা বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বড় দরজা রয়েছে গ্যারেজের, কিন্তু নেই পাঁচিল বা সিসি ক্যামেরা। সরকারি সম্পত্তি চুরি হয়ে যাচ্ছে, তাহলে সাধারণ মানুষকে কী করে নিরাপত্তা দেবে এই রাজ্যের সরকার? আমরা সঠিক তদন্ত চাইছি।”
পালটা দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর ভাইস চেয়ারম্যান ও তৃণমূলের নেতা ধর্মেন্দ্র যাদব বলেন, “এই গ্যারেজের কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। কিছুটা পাঁচিল নির্মাণের কাজও বাকি রয়েছে। আমরা নিরাপত্তারক্ষীদের নজরদারি বাড়ানোর কথা আগেই জানিয়েছিলাম। তবে বেশি কিছু চুরি যায়নি। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি।”