গ্যাংস্টারের চরিত্রে সুযোগ পেতে দেড় মাস বস্তিতে কাটালেন! বিবেক ওবেরয়ের ডেবিউ ছবির পেছনের অবিশ্বাস্য কাহিনি

বলিউডে নিজের প্রথম ছবি ‘কোম্পানি’ (Company)-তে চরিত্র পাওয়ার জন্য অভিনেতা বিবেক ওবেরয়কে (Vivek Oberoi) কতটা কঠিন আত্ম-রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, সম্প্রতি সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বিবেক তাঁর ডেবিউ-এর পেছনের অবিশ্বাস্য গল্পটি তুলে ধরেছেন।
পরিচালকের প্রাথমিক আপত্তি:
বিবেক জানান, পরিচালক রাম গোপাল বর্মা (আরজিভি) শুরুতে তাঁকে তাঁর চরিত্র ‘চান্দু নাগরে’-এর জন্য মানানসই মনে করেননি। আরজিভি-র মতে, বিবেককে দেখতে ‘খুব বেশি পলিশড’ (Too polished) ছিল, যা একজন গ্যাংস্টারের চরিত্রের সঙ্গে মানায় না।
বাস্তব জীবনের অডিশন:
পরিচালকের এই কথা শুনে বিবেক নিজেকে প্রমাণ করতে পণ করেন। তিনি টানা দেড় মাস (প্রায় ৬-৭ সপ্তাহ) মুম্বইয়ের একটি বস্তিতে সাধারণ জীবনযাপন শুরু করেন।
বিবেক বলেন, “আমি বস্তিতে গিয়ে ভাড়া করে একটি ছোট ঘর নিয়ে থাকতাম। রাতে সেখানে বড় বড় ইঁদুর আসত। ড্রাম থেকে জল তুলতে হতো, আর বাথরুম না থাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে সুলভ শৌচালয় ব্যবহার করতে হতো।”
এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর চরিত্র ‘চান্দু নাগরে’ কীভাবে বিড়ি খায়, চা পান করে বা কথা বলে।
চমকে গেলেন পরিচালক:
পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার পর, বিবেক সেই গ্যাংস্টারের লুকেই আরজিভির অফিসে যান এবং আরেকটি সুযোগ চান। বিবেক জানান, তাঁর সেই রূপান্তর দেখে পরিচালক একেবারে স্তম্ভিত হয়ে যান এবং সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ছবিতে চুক্তিবদ্ধ করেন। আরজিভি নাকি তাঁকে বলেছিলেন,
“জবরদস্ত অডিশন… এমন অডিশন আমি আগে কখনও দেখিনি।”
১০ টাকার সাইনিং অ্যামাউন্ট:
বিবেক জানান, ছবিতে চূড়ান্ত হওয়ার পর আরজিভি তাঁকে নিয়ে তাঁর বাবা, অভিনেতা সুরেশ ওবেরয়-এর বাড়িতে যান। ছেলের ডেবিউ-এর খবর শুনে বাবার চোখে জল চলে এসেছিল। মজার বিষয় হল, আরজিভি সেই মুহূর্তে বিবেককে সাইনিং অ্যামাউন্ট দিতে চাইলেও তাঁর কাছে নগদ টাকা ছিল না। তাই তিনি সুরেশ ওবেরয়ের কাছ থেকে ১০ টাকা ধার নিয়ে সেই টাকা বিবেকের হাতে তুলে দেন।