জুয়া খেলতে স্ত্রীকে বাজি ধরল স্বামী! হারতেই গণধর্ষণ, শ্বশুরের বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ!

উত্তরপ্রদেশের বাগপতে এক গৃহবধূ তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন-সহ একাধিক ভয়াবহ অভিযোগ এনেছেন, যা গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ওই বধূর অভিযোগ, তাঁর স্বামী মদ্যপান ও জুয়ার নেশায় আসক্ত ছিলেন এবং চরম নৃশংসতার শিকার হয়েছেন তিনি।

নির্যাতিতা বধূর অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর অক্টোবরে মিরাটের খাওয়াই গ্রামের দানিশ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাঁর উপর শারীরিক অত্যাচার শুরু হয়। বধূর মূল অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় তাঁর স্বামী তাঁকে প্রায়ই মারধর করতেন। এখানেই শেষ নয়, জুয়ার নেশায় আসক্ত স্বামী স্ত্রীকে পর্যন্ত বাজি রেখে জুয়া খেলেছেন।

স্বামী বাজি রাখতেই গণধর্ষণ!
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, জুয়ায় হেরে যাওয়ার পর তাঁর স্বামী তাঁকে অন্য পুরুষদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, জুয়ায় হেরে যাওয়ার পর আটজন পুরুষ তাঁকে ধর্ষণ করে। ওই আটজনের মধ্যে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে—গাজিয়াবাদের বাসিন্দা উমেশ গুপ্ত, মনু এবং অংশুল।

নির্যাতিতা আরও জানান, তাঁর স্বামীর পরিবারের সদস্যরাও এই নির্যাতনে শামিল ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, শ্বশুর ইয়ামিন, ভাসুর শাহিদ এবং ননদের স্বামী শওকিনও তাঁকে ধর্ষণ করেছেন। যৌতুক না আনার অজুহাত দিয়ে তাঁর শ্বশুর ইয়ামিন নাকি বলেন, “তুমি পণ নিয়ে আসোনি, তাই আমরা যা বলব সবই মানতে হবে। আমাদের খুশি রাখতে হবে।”

অ্যাসিড হামলা, গর্ভপাত এবং নদীতে ফেলার চেষ্টা
গৃহবধূর অভিযোগ, তাঁর উপর যে অত্যাচার চলেছে, তার মাত্রা চরম। “আমার গর্ভাবস্থা জোর করে নষ্ট করানো হয়। পায়ে অ্যাসিড ঢালা হয়েছিল। আমাকে মেরে ফেলার জন্য নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পথচারীরা আমাকে বাঁচিয়েছে,” সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন নির্যাতিতা। বর্তমানে এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর তাঁকে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।