গোর্খা ইস্যুতে মমতার চরম হুঁশিয়ারি! প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, পাহাড়ে ফের জট?

দার্জিলিং পাহাড়ে গোর্খা সমস্যার সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকারের একতরফা পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দ্বিতীয়বারের মতো কড়া চিঠি লিখলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ কুমার সিংকে আলোচক (Interlocutor) নিয়োগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বৈধতা এবং সংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার পাঠানো চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে এই বিষয়ে লেখা তাঁর প্রথম চিঠির কোনও উত্তর না দিয়েই কেন্দ্র আলোচক নিয়োগের কাজ শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, আমার চিঠির কোনও উত্তর ছাড়াই এবং আপনার হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ আলোচক, ১০ নভেম্বর তারিখের একটি স্মারকে জানিয়ে দিয়েছেন যে আলোচকের কার্যালয় কাজ শুরু করেছে। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।”
‘স্বেচ্ছাচারী এবং অসাংবিধানিক’
রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে মুখ্যমন্ত্রী ‘স্বেচ্ছাচারী’ এবং ‘একতরফা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং ভারতের সংবিধান বা অন্য কোনো বৈধ বিধানে এর কোনো ভিত্তি নেই।
চিঠিতে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, দার্জিলিং অঞ্চল হলো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ২০১১ সালের গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত হয়। এই আইন অনুযায়ী, দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং মহকুমায় স্ব-শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘রাজ্যপাল’ বলতে কেবল বাংলা সরকারকেই বোঝায় (আইনের ২(জ) ধারা)। তাই এই অঞ্চলের জন্য কোনও মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের নেই।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির সাথে আলোচনা এবং তাদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে বিএসএফের প্রাক্তন প্রধান এবং প্রাক্তন উপ-জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা পঙ্কজ কুমার সিংকে আলোচক হিসেবে নিযুক্ত করে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দ্বিতীয় চিঠি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করল।