রায় ঘোষণার আগে ভার্চুয়াল ভাষণ! শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে তীব্র আক্রমণ!

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আজ রায় ঘোষণা করবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার রায় ঘোষণার আগে, শেখ হাসিনা তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভার্চুয়াল ভাষণে তাঁর বিরুদ্ধে সাজানো ঘটনাক্রমকে “সম্পূর্ণ অবৈধ” বলে তীব্র নিন্দা করেছেন।

তিনি সরাসরি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর জোটবদ্ধদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তাঁকে “শাস্তি” দেওয়ার জন্য একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা সমস্ত আইনি নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।

রায়দানের প্রক্রিয়া ও অভিযোগ
আইসিটি-১ গত ১০ জুলাই, ২০২৪ সালের সরকারি চাকরিতে বিতর্কিত কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত খুন, খুনের চেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক কাজ-এর ৫ অভিযোগে শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।

মামলার প্রকৃতি: মানবতাবিরোধী অপরাধ।

ট্রাইব্যুনাল: ট্রাইব্যুনাল-১।

রায়দান: আজ (সোমবার)।

প্রসঙ্গত, এই মামলায় প্রাক্তন পুলিশকর্তা (মামুন) ইতিমধ্যে রাজসাক্ষী হয়েছেন। জনগণের আগ্রহের কারণে সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশে রায়দান সরাসরি বড় পর্দায় সম্প্রচার করা হবে।

আওয়ামী লীগের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং সেনাবাহিনীর আরজি
আইসিটি-র রায়দানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। যেকোনো ধরনের অশান্তি রুখতে সারাদেশে পুলিশ এবং বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েনের আরজি জানানো হয়েছে।

হাসিনা তাঁর সমর্থকদের রাস্তায় নেমে দেশব্যাপী লকডাউন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে সহিংসতা বা ভয় দেখানো তাঁকে “চুপ করতে পারবে না”।

ইউনূস প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাসিনার অভিযোগ
ভার্চুয়াল ভাষণে হাসিনা ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে অনির্বাচিত, অবৈধ এবং দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য দায়ী বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ইউনূসের সমর্থকরা গত বছরের অস্থিরতার পর বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে।

তিনি দাবি করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অধীনে “অপরাধীরা জুলাই মাসের নায়ক হয়ে উঠেছে”, এবং সাংবিধানিক অবক্ষয় ঘটছে।

রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত
হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসতে চাইতে পারেন, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহাওয়ার ওপর। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ যদি “অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন” করতে পারে, যেখানে আওয়ামী লীগ সহ সকল প্রধান দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবেই তিনি রাজনীতিতে পুনরায় প্রবেশ করবেন।

তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে রাজনৈতিক পতনের কারণে নয়, বরং তাঁর সরকারকে অস্থিতিশীল করার সমন্বিত প্রচেষ্টার জন্য। ঢাকায় থাকলে “রক্তপাতের” ঝুঁকি থাকত বলেই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন।