‘মানুষ আতঙ্কিত!’ দৈনিক ১৫০-এর বদলে দ্রুত সার্টিফিকেট দিতে নির্দেশ মেয়রের, কেন হঠাৎ বাড়ল ভিড়?

ভোটার তালিকা নিবিড় সমীক্ষা (SIR) শুরু হওয়ার পর থেকেই শহরজুড়ে জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate) সংগ্রহের জন্য চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জন্ম শংসাপত্র ছাড়া ভোটার তালিকায় কোনও সংশোধন সম্ভব নয়—এই নিয়ম কার্যকর হতেই বুধবার কলকাতা পুরসভায় (KMC) ভিড় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল।

গত এক সপ্তাহ ধরে কলকাতা পুরসভার মূল ফটকের সামনে ভিড় যেন থামছেই না। বুধবার সেই লাইন পুরসভার গেট থেকে শুরু করে লাগোয়া রক্সি সিনেমা হল পর্যন্ত সাপের মতো লম্বা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারেরও বেশি আবেদনকারী বার্থ সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন। এদের মধ্যে অনেকেই অফিস ছুটি নিয়ে এসেছেন, আবার অনেকে শুধু এই শংসাপত্রের জন্য ভিন রাজ্য থেকেও ছুটে এসেছেন।

পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ভিড় সামলাতে এবং মানুষের আতঙ্ক কমাতে তিনি পুরসভাকে আরও দ্রুত জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মেয়র এদিন বলেন, “মানুষ আতঙ্কিত। তাই দৈনিক প্রতিলিপি কপির সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হোক।” পুরস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দিনে গড়ে ১৫০টি জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। মেয়রের নির্দেশের পর দ্রুত এই সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ভিড় শুধু কলকাতার বাসিন্দাদের নয়। পুরসভার এক কর্তা জানান, ভিন জেলা এবং ভিন রাজ্যের মানুষও এই ভিড়ে শামিল। তাঁদের জন্ম হয়েছে শহরের কোনও বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে। কাজের সুবাদে তাঁরা এখন হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু বা অন্যান্য রাজ্যে থাকেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য তাঁরা এখন অফিস ছুটি নিয়ে জন্ম শংসাপত্র নিতে ছুটে আসছেন। এমনকি পাসপোর্ট বা ভিসা সংক্রান্ত আবেদনের জন্য ভিন জেলার থানাগুলি থেকেও যাচাইয়ের জন্য একাধিক জন্ম শংসাপত্র পাঠানো হচ্ছে।

মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এখন আর হাতে লেখা জন্ম শংসাপত্র দেওয়া হবে না। প্রতিটি সার্টিফিকেটই কম্পিউটারে তৈরি, জলছবি সংযুক্ত এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্বাক্ষরিত। পুরস্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্তা জানান, করোনার সময় থেকেই চ্যাটবটের মাধ্যমে এই পরিষেবা চালু আছে। তবে মাঝেমধ্যে সার্ভার বা কম্পিউটার হ্যাং করায় কাজের গতি কমছে এবং মানুষ অভিযোগ জানাচ্ছেন। সেই পরিস্থিতিতেই মেয়র দ্রুত শংসাপত্র ইস্যুর গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।