লাল কেল্লা বিস্ফোরণের পর আরও ভয়ংকর তথ্য! জইশ-ই-মোহাম্মদের মূল টার্গেট ছিল অযোধ্যা ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দির, ৬ ডিসেম্বর বড় হামলার ছক!

দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের আতঙ্ক না কাটতেই তদন্তে উঠে এসেছে এক আরও ভয়ংকর ছবি। পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের (JeM) ‘হোয়াইট কলার’ ইসলামিস্ট টেরর মডিউল কেবল দিল্লিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেনি, তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল উত্তরপ্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলি।

বিশেষ করে, ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার রাম মন্দিরে একটি বড় ধরনের হামলার ছক কষা হয়েছিল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনে এই হামলা করে দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর কৌশল ছিল সন্ত্রাসবাদীদের।

ডাক্তারদের নেতৃত্বে terror মডিউল

এনআইএ-র তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে যে এই মডিউলের মূল চালক ছিল শিক্ষিত, র‍্যাডিকালাইজড ডাক্তাররা। তারা ফরিদাবাদ থেকে বিস্ফোরক সংগ্রহ করে দিল্লিতে গাড়ি কিনে বোমা লোডিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু এবং ২৫ জনেরও বেশি আহত হওয়ার পর দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬:৫০-এর দিকে লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে রেড লাইটে থামা সাদা হুন্ডাই আই-২০ গাড়িটি প্রচণ্ড ধমকের সঙ্গে উড়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে বিস্ফোরণের তীব্রতা ধরা পড়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি ছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-ভিত্তিক বিস্ফোরক (ANFO) ব্যবহার করে ফিদায়িন-স্টাইলের হামলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

প্যানিক থেকে অকাল বিস্ফোরণ

গাড়ির চালক ছিলেন পুলওয়ামার ডাক্তার মোহাম্মদ উমর নবী, যিনি ফরিদাবাদের আল ফালাহ ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত ছিলেন। সূত্র বলছে, সহকর্মীদের গ্রেফতারের খবর পেয়ে প্যানিক-এ উমর গাড়িটি অকালে ফাটিয়ে ফেলেন, যার ফলে পরিকল্পিত সিরিয়াল অ্যাটাক অর্ধসমাপ্ত হয়ে যায়।

৯টি টার্গেটের মধ্যে প্রধান ছিল মন্দির

তদন্তে এখন স্পষ্ট হয়েছে, লাল কেল্লা ছিল নয়টি টার্গেটের মধ্যে একটি। এনআইএ-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, মডিউলটি ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বড় বোমা হামলার পরিকল্পনা করছিল। গ্রেফতার হওয়া ড. শাহিন শাহিদ-এর স্বীকারোক্তি থেকে জানা গেছে, অযোধ্যায় একটি স্লিপার সেল সক্রিয় করা হয়েছিল, যাতে রাম মন্দিরের ভিড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়ানো যায়।

বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরও ছিল তাদের টার্গেট। সেখানে হাসপাতাল এবং ভিড়ভাট্টা জায়গাগুলোতে ২৬/১১-স্টাইলের সিরিয়াল অ্যাটাকের ছক ছিল। মডিউলের লিস্টে থাকা অন্যান্য টার্গেটের মধ্যে ছিল দিল্লির রেড ফোর্ট, ইন্ডিয়া গেট, কনট প্লেস, গৌরী শঙ্কর মন্দির এবং দেশজুড়ে রেল স্টেশন ও শপিং মল। এই শিক্ষিত ডাক্তাররা টেলিগ্রাম গ্রুপে সমন্বয় করে বিস্ফোরক সংগ্রহ করছিল।