৩ বছর পর বাড়ি ফিরেই ‘খোলা চিঠি’ লিখলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়! “আমার সততার ছবি যারা মাটিতে মেশাল, তাদের ছেড়ে দেওয়া সামাজিক অপরাধ!”

৩ বছর ৩ মাস ১৯ দিনের জেলজীবনের পর মঙ্গলবার বাড়ি ফিরেই যেন নিজের হারানো ছন্দে ফিরে গেলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বেহালার (পশ্চিম) বিধায়ক হিসেবে নিজের এলাকার মানুষদের উদ্দেশ্যে লিখলেন এক খোলা চিঠি।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় চিঠিতে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে। তিনি লিখেছেন, “আমি কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি? আমার নামে কেউ টাকা নিয়েছে কি না, জানাতে অনুরোধ করছি।” আক্ষেপের সুরে তিনি আরও যোগ করেন, “আমার সততার ছবিকে যারা মাটিতে মিশিয়ে দিল, তাদের ছেড়ে দেওয়া সামাজিক অপরাধ।”
প্রশাসনিক কাজে সক্রিয়তা এবং বেহালাবাসীর কাছে আবেদন
জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক কাজেও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বুধবার ভোরের আগেই বেহালার বাড়িতে বসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ SIR-এর এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেন, যা তাঁর নতুন করে শুরু করার প্রতীক।
বেহালাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি চিঠিতে লিখেছেন, “বেহালাবাসীর আশীর্বাদেই পাঁচ বার জিতেছি। মিথ্যা অপবাদের কারণে আমার সম্মান নষ্ট হয়েছে। আমার ছবিটা আপনারাই উদ্ধার করুন।”
দলের কাছে সাসপেন্ডের কারণ জানতে চাইলেন
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ২২ জুলাই রাতে গ্রেফতার হওয়ার কিছুদিন পরই তৃণমূল তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছিল। জেল থেকে মুক্তির পর মঙ্গলবারই তিনি দলের শীর্ষনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আরও এক চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানতে চেয়েছেন, “দলের কোন ধারায় আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল?”
রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন—জেল থেকে বেরিয়ে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী কি ফের রাজনীতিতে ফিরছেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। বেহালায় তাঁর এই তৎপরতা এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।