জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বিধানসভায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়? কোথায় বসবেন ‘বহিষ্কৃত’ বিধায়ক? আসন নিয়ে চরম সংশয়ে সচিবালয়!

প্রায় সাড়ে তিন বছর জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে জামিন পেয়ে সোমবার বাড়ি ফিরেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। চাকরি দুর্নীতিতে গ্রেফতারের পরই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করলেও, তিনি এখনও বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক। ফলে আগামী শীতকালীন অধিবেশনে তিনি চাইলেই বিধানসভার অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন। এই পরিস্থিতিতেই বিধানসভার সচিবালয় এখন বড় সংশয়ে—পার্থ চট্টোপাধ্যায় এলে তাঁকে কোথায় বসানো হবে?
সূত্রের খবর, বিধানসভার সচিবালয়ের পক্ষ থেকে রাজ্যের পরিষদীয় দফতরের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।
আসন নিয়ে জটিলতা: তৃণমূল-বিজেপির মাঝে বসতে পারেন পার্থ!
দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও এখনও বিধায়ক থাকার কারণে, বিধানসভায় তাঁর বসার ব্যবস্থা করতে হবে। এখন পর্যন্ত যা খবর, পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিধানসভায় এলে তাঁকে শাসক (তৃণমূল) এবং বিরোধী (বিজেপি) শিবিরের মাঝামাঝি কোথাও বসানো হতে পারে।
সেক্ষেত্রে তাঁর আসনটি তৃণমূল ও বিজেপি বিধায়কদের বসার জায়গার মাঝে বরাদ্দ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন হলে, তাঁর নিকটবর্তী বিধায়ক হতে পারেন আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দিকী। কারণ, তৃণমূল এবং বিজেপি বাদে বিধানসভায় বর্তমানে নওশাদই একমাত্র তৃতীয় কোনও দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। (উল্লেখ্য, কংগ্রেসের টিকিটে জেতা বাইরন বিশ্বাস পরে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় তিনি শাসক দলের সঙ্গেই বসেন)।
বিড়ম্বনা বাড়াবেন? প্রাক্তন মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে জল্পনা
যদিও বিধানসভায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের যোগদান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁর একটি মন্তব্য নতুন প্রশ্ন তুলেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী নাকি ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, “সাড়ে তিন বছর যেখানে নষ্ট হয়ে গেল, সেখানে সাড়ে তিন মাসের জন্য বিধানসভায় গিয়ে আর কী হবে?”
এই মন্তব্যের পর, তিনি শেষ পর্যন্ত বিধানসভায় গিয়ে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ান কি না, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।