সেনা ছাউনিতে অনুপ্রবেশ! সুপারভাইজারের ছদ্মবেশে ব্যাঙডুবির সামরিক ঘাঁটিতে বাংলাদেশি গুপ্তচর আটক

দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় নিরাপত্তার বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ উঠে এল। উত্তরবঙ্গের ব্যাঙডুবি সেনা ছাউনির (Binnaguri/Bengdubi Military Station) অভ্যন্তরে নির্মাণ কাজের বরাত নিয়ে সাইট সুপারভাইজারের ছদ্মবেশে প্রবেশ করা এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সেনা। ধৃতের নাম নন্দ মণ্ডল, যার বাড়ি বাংলাদেশের রংপুর জেলায়।

সেনা গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রের দাবি, নন্দ মণ্ডল ভুয়ো আধার কার্ড-সহ একাধিক ভুয়ো নথি ব্যবহার করে সেনা ছাউনির ভেতরে প্রবেশ করেছিল এবং সংবেদনশীল সামরিক এলাকার ছবি ও ভিডিও গোপনে সংগ্রহ করছিল।

যেভাবে ফাঁস হল ষড়যন্ত্র:

ছদ্মবেশ: নন্দ মণ্ডল নিজেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বাসিন্দা ও নির্মাণ কাজের সুপারভাইজার হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে তার পরিচয় সন্দেহমুক্ত মনে হয়েছিল।

মোবাইল তল্লাশি: একদিন নিয়মিত তল্লাশির সময় সেনা কর্মীরা নন্দের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতে চান। এই সময় সে অস্বাভাবিকভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

প্রমাণ: মোবাইল আনলক করার পর দেখা যায়, তার গ্যালারিতে ছাউনি এলাকার অভ্যন্তরের ৪০টিরও বেশি ছবি, সেনা যানবাহনের আগমন-নির্গমনের ভিডিও ক্লিপ এবং কিছু লক করা ফাইল রয়েছে।

যোগাযোগ: মোবাইলে একটি বিদেশি নম্বরের সঙ্গে বারংবার হোয়াটসঅ্যাপ কল লগ এবং ফাইল শেয়ারিংয়ের তথ্য পাওয়া যায়। সেনা সূত্রে খবর, ধৃত হওয়ার আগের রাতে সে টানা ৪ ঘণ্টা হোয়াটসঅ্যাপ কল করেছিল।

আসল পরিচয় এবং নথি জালিয়াতি:

জিজ্ঞাসাবাদের পর তার আধার কার্ড যাচাই করা হয়। আধার কার্ডের QR কোড স্ক্যান করলে কোনো তথ্য মেলেনি। তার দেওয়া ঠিকানাটিও ভুয়ো প্রমাণিত হয়। সমস্ত নথি যাচাই করার পরই জানা যায়, নন্দ মণ্ডল আসলে বাংলাদেশের রংপুর জেলার বাসিন্দা এবং বেআইনিভাবে ভারতে ঢুকেছিল।

পূর্বের ঘটনা ও যৌথ তদন্ত:

উল্লেখ্য, এটিই প্রথম ঘটনা নয়। এ বছরের জুলাই মাসেও একই এলাকায় সেনা ছাউনির আশপাশে ঘোরাঘুরি ও জিপিএস লোকেশন পাঠানোর অভিযোগে আরও দুই বাংলাদেশি গুপ্তচরকে আটক করা হয়েছিল।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সেনা গোয়েন্দা বিভাগ এবং এনআইএ (NIA) যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তারা নন্দের নেটওয়ার্ক ও তার পেছনে থাকা বিদেশি যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।