আশঙ্কাই সত্যি! সাপের কামড়কে ‘মিথ্যা’ বলায় মর্মান্তিক পরিণতি—চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ছাতনা হাসপাতাল রণক্ষেত্র!

ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসায় চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ তুলে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সাপের কামড়ের শিকার বছর বারোর এক কিশোরকে সময়মতো অ্যান্টিভেনম না দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামাতে হলো বিশাল পুলিশ বাহিনী।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে বাঁকুড়ার ছাতনা থানার সরবেড়িয়া গ্রামের সন্দীপ রানাকে ধানের জমিতে সাপে কামড় দেয়। পাঁচ মিনিটের মধ্যে তাকে ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে আনার পর দ্রুত অ্যান্টিভেনম দেওয়ার বদলে সন্দীপকে তার বাবা-মাকে ডেকে আনতে বলা হয়। অভিভাবকরা এলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্দীপের আঘাতকে ‘সাপের কামড় নয়, কাঠির আঘাত’ বলে দাবি করেন এবং চিকিৎসা শুরু করতে অস্বীকার করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার চাপ দেওয়া হলে, অবশেষে সন্দীপকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, এই অযথা সময় নষ্টের কারণেই কিশোরের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
অবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সন্দীপের।
মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সন্দীপের দেহ গ্রামে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। মৃতদেহ নিয়ে কয়েকশো মানুষ ভিড় করেন ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সামনে। চিকিৎসকদের গাফিলতির অভিযোগে সেখানে প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়। উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছাতনা থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছয়। পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ চলে।
মৃত কিশোরের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।