সেনাবাহিনীর মনোবলে আঘাত? কর্তব্যরত ১৫ সেনা কর্তার বিচার নিয়ে বাংলাদেশে তুমুল অস্থিরতা! পরবর্তী শুনানি ৫ নভেম্বর, জামিন হবে কি?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব এক পরিস্থিতি তৈরি হলো। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি-বিডি) অপহরণ, হত্যা ও হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে সেনাবাহিনীর ১৫ জন কর্তব্যরত আধিকারিককে কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, বিচারপতি এম গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ‘পলাতক’ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ জারি করেছে।
এই সামরিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বকালীন সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছিল।
কঠোর নিরাপত্তায় সেনা আধিকারিকদের আদালতে হাজির
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে একটি সবুজ বাসে করে ওই ১৫ জন সেনা আধিকারিককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন এক মেজর জেনারেল, ছয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, কয়েকজন কর্নেল, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও মেজর। গত ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর গত ১১ অক্টোবর সেনা কর্তৃপক্ষ ওই ১৫ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। অন্য একজন অভিযুক্ত (শেখ হাসিনার প্রাক্তন সামরিক সচিব) এখনও পলাতক।
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ঘোষণার পর সরকারের প্রধান আইনজীবী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আদালতে হাজির করানো ১৫ জন সেনা আধিকারিককে অপহরণ, হত্যা ও হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের মামলায় কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।” তিনি জানান, এদিন আদালত কোনও জামিনের আবেদন শুনতে চায়নি। আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি, তার আগে জামিনের আবেদন করা যেতে পারে।
সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ, সতর্কবার্তা বিএনপির
আগামী ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার সম্প্রতি ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে শেখ হাসিনা সরকারের সময়কালের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচারের পথ খুলে দেয়। তবে কর্মরত সেনা আধিকারিকদের অসামরিক আদালতে হাজির করা এবং বিচার প্রক্রিয়া চালানো নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রবল অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।
কয়েকজন প্রাক্তন সেনাকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচার সেনাবাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ইউনূস সরকারকে সতর্ক করে বলেছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এমন কোনও পদক্ষেপ যেন না করা হয়।
রাজনীতিতে নয়া মোড়
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে শেখ হাসিনার আমলেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি-বিডি) মূলত মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে সেই ট্রাইব্যুনালই ব্যবহৃত হচ্ছে তাঁর আমলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ায়।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা হয় জেলবন্দি, না হয় আত্মগোপন করে আছেন। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী প্রশাসন শেখ হাসিনার দলের প্রকাশ্যে কাজকর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনে তারা লড়তে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে ১৫ জন সেনা আধিকারিকের কারাদণ্ডের নির্দেশ বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করল।