‘মানুষের ক্ষোভের কথা কি শুনলেন?’ রায়দিঘিতে বিক্ষোভের পর শুভেন্দুর ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলায় কুণাল ঘোষের কড়া আক্রমণ!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে কালীপুজোর অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনা নিয়ে রাজনীতি তুঙ্গে। শুভেন্দু যখন এই ঘটনায় তৃণমূলকে আক্রমণ করে হিন্দুদের ‘একজোট’ হওয়ার ডাক দিয়েছেন, ঠিক তখনই তাঁর আক্রমণের পাল্টা দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।

কুণাল ঘোষ সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি নেতারা যেভাবে ‘বাংলাদেশী’ বলে রাজ্যের মানুষকে বারবার অপমান করেছেন, তাতে মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই ক্ষোভের ফলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।

‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার অভিযোগ:

রায়দিঘির ঘটনা প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষের বক্তব্য, তৃণমূল এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। তিনি বলেন, “তৃণমূল অকারণে বিজেপিকে কেন হিরো করতে যাবে? যেই মানুষগুলো একশো দিনের কাজ করেছিল, তাদের টাকা দেননি আপনারা (কেন্দ্র)। তৃণমূল কংগ্রেস কোথাও কোনও বাধা দিচ্ছে না, কিন্তু একশো দিনের টাকা দিচ্ছে না—সেটা মানুষ চাইবে না?”

এরপর শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে কুণাল সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন: “মানুষের ক্ষোভের কথা কি শুনলেন? আজকে ভিকটিম কার্ড খেলছেন কেন?”

অনুপ্রবেশ ও শীতলকুচি প্রসঙ্গ:

শুভেন্দু অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজ্য সরকারকে নিশানা করার প্রেক্ষিতে কুণাল পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “অনুপ্রবেশ ঠেকানো রাজ্য সরকারের দায়িত্ব না, অমিত শাহ বিএসএফ দেখেন… ত্রিপুরা থেকে (অনুপ্রবেশকারীরা) কীভাবে ধরা পড়ল তাহলে?” অর্থাৎ, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতাকে তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন।

পাশাপাশি, বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে উদ্দেশ্য করে কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “আমাকে গালাগালি পরে করবেন। আগে বাংলাদেশে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবিকে ফেরত নিয়ে আসুন। গুলি চালিয়ে শীতলকুচিতে লোক মেরেছিল বিজেপি, তৃণমূল এই রাজনীতি করে না।” কুণালের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, তৃণমূল এই ঘটনাকে বিজেপির পুরনো বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে রাজনৈতিক আক্রমণ শানাতে চাইছে।