বৃষ্টি কি পিছু ছাড়বে না? কালীপুজোর দিনেও ভিজতে পারে বাংলা, ৩ জেলায় জারি ‘হলুদ সতর্কতা’!

আবহাওয়ার বদল স্পষ্ট হলেও শীতের অপেক্ষায় থাকা শহরবাসীর জন্য কালীপুজোতে ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। যদিও উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাই শুষ্ক থাকবে বলে জানা গিয়েছিল, তবে আজ দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলায় জারি হয়েছে ‘হলুদ সতর্কতা’।
আবহাওয়া অফিসের আপডেট অনুযায়ী, আজ (সোমবার, ২০ অক্টোবর) দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলা— পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই তিন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাসও বইতে পারে। তবে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, নদিয়া, বর্ধমান, হাওড়া এবং হুগলিতে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।
কলকাতার আবহাওয়া:
আজ, ২০ অক্টোবর কলকাতায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি (সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ) থাকায় দিনভর অস্বস্তিকর গরম বজায় থাকবে।
শনি-রবিবারে বৃষ্টির পূর্বাভাস:
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবর (শনিবার) থেকে বাংলায় ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। শনিবার উপকূলের জেলাগুলিতে মেঘলা আকাশ থাকবে এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। রবিবারও এই প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। মূলত দক্ষিণা বাতাস ও পশ্চিমী হাওয়ার সংস্পর্শে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির এই পরিস্থিতি তৈরি হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে শনি ও রবিবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি:
উত্তরবঙ্গে আজ আকাশ রোদ ঝলমলে থাকলেও দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে বিচ্ছিন্নভাবে দু-এক পশলা হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদায় আজ শুষ্ক আবহাওয়াই থাকবে।
নিম্নচাপের জোড়া ফোঁড়া:
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণ হল দুটি নিম্নচাপের সম্ভাবনা। দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগর এবং লাক্ষাদ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। একইসঙ্গে দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরেও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এই সিস্টেমগুলির প্রভাবে রাজ্যের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।