‘SIR না হলে ভোট নয়!’ নির্বাচন নিয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, পাল্টা চালে কি ব্যাকফুটে তৃণমূল?

দার্জিলিং পাহাড়ে গোর্খা সমস্যার সমাধানে কেন্দ্রের মধ্যস্থতাকারী (Mediator) নিয়োগের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দেওয়ার পরই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দেন, গোর্খাদের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করার সাংবিধানিক অধিকার কেন্দ্রীয় সরকারের রয়েছে এবং এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি জানানোর কোনও অধিকার নেই।

‘মুখ্যমন্ত্রীর অধিকার নেই’

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পাহাড়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র। মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে কোনও ভুল নেই। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করছেন না, সেটাই কেন্দ্রকে করতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সকলেই সংবিধান মেনে কাজ করি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীই কেবল নিজেকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে মনে করেন।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা। বিজেপি-র এতে কোনও ভূমিকা নেই।”

এরপরেই অনুপ্রবেশকারী এবং নাগরিক পঞ্জি (SIR) ইস্যুতে ফের একবার জোর গলায় হুঁশিয়ারি দেন বিরোধী দলনেতা। তিনি দাবি করেন, “বাংলার মানুষ বলছে SIR না হলে তারা ভোট দেবেন না। নির্বাচন আসন্ন। ফলে SIR হবেই। অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে। আর তৃণমূলও ধীরে ধীরে শক্তি হারাবে।”

মমতার আপত্তির কারণ

প্রসঙ্গত, দার্জিলিংয়ের গোর্খা সমস্যার সমাধানে কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি একজন ‘মধ্যস্থতাকারী’ নিয়োগ করেছে। এই ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এই একতরফা সিদ্ধান্ত দার্জিলিং, তরাই এবং ডুয়ার্স অঞ্চলের স্বার্থ ও সম্প্রীতির পক্ষে হবে না, বরং সমস্যা বাড়াতে পারে। সেই কারণেই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগ প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরই পাল্টা আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু অধিকারী।