কালীপুজোর রাতে ভাগ্য ফেরাতে চান? জেনে নিন মা-কে তুষ্ট করার ৬টি অব্যর্থ উপায়!

কথায় আছে, মা কালীর কাছে সকল ভক্ত সমান। ভক্তিভরে যে তাঁকে ডেকেছেন, খালি হাতে তিনি কাউকে ফেরাননি। যে খোলা মনে, নিঃস্বার্থভাবে দেবীর প্রার্থনা করেন, তাঁর কাছেই ধরা দেন দেবী কালিকা। মা কালী তাঁর ভক্তদের রোগ, শত্রু ও আর্থিক অনটন থেকে রক্ষা করেন। তাই মনে করা হয়, কালীপুজোর এই বিশেষ দিনে যদি কিছু নির্দিষ্ট উপাচার নিষ্ঠাভরে পালন করা যায়, তবে দেবী খুশি হন। তাঁর কৃপা দৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে নেমে আসে আপনার এবং আপনার পরিবারের উপরে।

কালীপুজোর দিন কী কী উপাচার পালন করলে মা তুষ্ট হন এবং আপনার জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসবে, তার বিশেষ কিছু নিয়মাবলি নিচে দেওয়া হলো:

১. অখণ্ড প্রদীপ: কালী পুজোর দিন সকাল থেকে শুরু করে সারা রাত পর্যন্ত ঘরের ঠাকুরের আসনে একটি ঘি-এর প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখুন। খেয়াল রাখবেন, এই প্রদীপ যেন কোনও ভাবেই নিভে না যায়। একে ‘অখণ্ড দীপ’ বলে। মনে করা হয়, সারা রাত প্রদীপ জ্বললে সমস্ত অশুভ শক্তি দূর হয়ে ঘরে শুভ শক্তি প্রবেশ করে।

২. ছাদে পাঁচমুখী প্রদীপ: কালী পুজোর দিন রাতে বাড়ির ছাদে বা উঁচু স্থানে একটি কালো রঙের পাঁচ-মুখী প্রদীপ জ্বালান। এটি বাইরের অন্ধকার দূর করে এবং দেবীর আগমন পথকে আলোকিত করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

৩. ব্রাহ্মণ ভোজন: যাঁরা কালী পূজার উপবাস পালন করেন, তাঁরা পূজার পরের দিন একজন বা একাধিক ব্রাহ্মণকে ভোজন করান। শাস্ত্র মতে, এই কাজটি করলে উপবাসের সম্পূর্ণ ফল লাভ করা যায় এবং দেবীর বিশেষ কৃপা মেলে।

৪. মন্দিরে দান: কালী ঠাকুরের মন্দিরে আপনার সাধ্যমতো কিছুটা আতপ চাল, একটি গোটা নারকেল, ১০৮ টি জবা ফুলের মালা এবং কিছুটা ঘি দান করুন। জবা ফুল মা কালীর অত্যন্ত প্রিয়, তাই এটি অর্পণ করলে মা শীঘ্র তুষ্ট হন।

৫. বট গাছে কালো তিল: কালী পুজোর দিন সন্ধ্যার পর পবিত্র বট গাছের গোঁড়ায় তিন বার কালো তিল রাখুন। মনে করা হয়, এই বিশেষ উপাচারটি করলে ভক্তের মনের সমস্ত আশা পূর্ণ হয় এবং বাধা-বিপত্তি কেটে যায়।

৬. খাড়াগ দান: আপনার সামর্থ্য থাকলে, দেবী কালীর কোনও মন্দিরে বা পূজামণ্ডপে একটি নতুন খাড়াগ (বলির অস্ত্র) দান করুন। এই দানকে মা কালীর কাছে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, যা শত্রু নাশ ও জীবনের সকল সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।