রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না করলে ‘চড়া শুল্ক’! ফের ভারতকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতকে আরও মূল্য চোকাতে হবে—এই হুঁশিয়ারি দিয়ে ফের একবার চড়া হারে শুল্ক আরোপ করার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি আবারও দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) কাছ থেকে তিনি এই বিষয়ে নিশ্চয়তা পেয়েছিলেন। যদিও গত সপ্তাহে নয়া দিল্লি তাঁর এই দাবি কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে।
কেন ট্রাম্পের আপত্তি?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কারণে রাশিয়া বর্তমানে সস্তায় তেল বিক্রি করছে এবং ভারতই এখন তাদের প্রধান ক্রেতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে তাদের রাজস্ব বাড়াচ্ছে এবং এর ফলে রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে। তাঁর দাবি, ভারতের তেলের টাকায় নাকি রাশিয়ার যুদ্ধের খরচ উঠে যাচ্ছে। এই কারণে তিনি তেল কেনা বন্ধ করার জন্য বদ্ধপরিকর।
‘চড়া শুল্ক’ মেটাতে হবে:
রবিবার ট্রাম্প এয়ারপোর্টে সফর করার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। একজন সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে, ভারত জানিয়েছে তারা রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনা বন্ধ করবে না, এমনকি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনও কথাও হয়নি বলে নয়া দিল্লি দাবি করছে।
এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে ওদেরকে চড়া মূল্যে শুল্ক মেটাতে হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর আরও বেশি পরিমাণে শুল্ক চাপাতে পারেন, যা বর্তমানে তিনি চিনের ক্ষেত্রে করছেন।
ভারতের ওপর আগেই ৫০% শুল্ক:
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনার জেরে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ট্রাম্প প্রশাসন আগেই ৫০% শুল্ক আরোপ করেছিল। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে যে বিরাট ধাক্কা লেগেছে, তা স্পষ্ট।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, মোদীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে এবং মোদী নাকি তাঁকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এর পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সাফ জানানো হয় যে, এরকম কোনও ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হয়নি। ট্রাম্পের দাবি একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছে সাউথ ব্লক।
এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে সত্যিই তেল কেনা বন্ধ করে কিনা, যা নির্ভর করবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ওপর।