‘নন্দীগ্রামের হার এখনও তাড়া করছে’! ‘বহিরাগত’ মন্তব্য করে কেন দিশাহারা মমতা? তীব্র আক্রমণে অমিত মালব্য

ভবানীপুর উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ফের একবার ‘বহিরাগত’ ইস্যু ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। তিনি বলেছেন, “আমি যখন ‘বহিরাগত’ বলেছি, তখন একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কথা বলেছি যারা পরিকল্পনা করে বাইরের মানুষ এনে ভোটে প্রভাব ফেলতে চায়।”

মমতা আরও অভিযোগ করেন যে, “কেউ কেউ কলকাতায় এসে ফ্ল্যাট কিনে বা এখানে বসবাসের ভান করে ভোটার তালিকায় নাম তুলছে। আমি শুধু মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছি।” অর্থাৎ, তাঁর নিশানায় ছিল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কৌশল।

বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়া:

মমতার এই বক্তব্য সামনে আসতেই বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য (Amit Malviya) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। টুইট করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘সম্পূর্ণ দিশাহারা’ বলে আখ্যা দেন। মালব্য লেখেন, “তিনি এখন এমন দাবি করছেন যে, ভবানীপুরে মানুষ ফ্ল্যাট কিনছে শুধুমাত্র তাঁকে হারানোর জন্য! এটা অত্যন্ত অদ্ভুত ও হাস্যকর।”

অমিত মালব্যের মতে, “নন্দীগ্রামের পরাজয় এখনও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যই প্রমাণ করছে যে কলকাতার মানুষ তাঁর প্রতি কতটা বিরক্ত এবং তাঁকে যেকোনো মূল্যে হারাতে চাইছে।

রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক:

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতার এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভোটের আগে এটি কেবলই রাজনৈতিক কৌশল। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও এই মন্তব্য তাঁর আত্মবিশ্বাস হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিরোধীরা মনে করছেন। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এই বক্তব্যের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিচয়বাদের ছোঁয়া দিয়ে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ককে সক্রিয় করতে চাইছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল শিবির অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত করার অভিযোগ তুলেছে। তারা বলেছে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও কোনও সম্প্রদায় বা রাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে কথা বলেননি। তিনি শুধু বলেছেন, ভোটে প্রভাব ফেলতে কেউ যেন ভুয়ো ভোটার না আনে। এটা সতর্কবার্তা, কোনও বিভাজনের ডাক নয়।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামে হার মমতার রাজনৈতিক মানসিকতায় এক গভীর ছাপ ফেলেছে, যার ফলেই তিনি আগাম বিপদ চিহ্নিত করতে গিয়ে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন। তৃণমূলের একাংশও মনে করছে, এই বক্তব্য বিরোধীদের হাতে সহজ অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। সবমিলিয়ে, ভবানীপুর উপনির্বাচনের আগে এই ‘বহিরাগত’ বিতর্ক বঙ্গ রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।