১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা কেজি! এই দীপাবলিতে সোনা-রুপার দামে মিষ্টি! জানুন ভারতের সবচেয়ে দামি ‘স্বর্ণ প্রসাদম’-এর রহস্য

দীপাবলির উপহার মানে একসময় ছিল শনপাপড়ির বাক্স। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে উৎসবের উপহারের ধারণা। মিষ্টি বিতরণের ক্ষেত্রেও এখন এসেছে বিলাসিতা ও শৈল্পিকতার ছোঁয়া। এই দীপাবলিতে জয়পুরের মিষ্টি বাজার সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক। বিশেষত জয়পুরের অঞ্জলি জৈনের বুটিক আউটলেটে তৈরি একটি মিষ্টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে, যার নাম ‘স্বর্ণ প্রসাদম’। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম অনুসারে, এই মিষ্টির দাম প্রতি কেজি ১.১১ লক্ষ টাকা, যা সম্ভবত ভারতের সবচেয়ে দামি মিষ্টি!
স্বর্ণ প্রসাদমের বিশেষত্ব:
অঞ্জলি জৈন জানান, তাঁর লক্ষ্য ছিল স্বাদ, স্বাস্থ্য এবং রাজকীয় পরিশীলিতাকে একটি সৃষ্টিতে মিশিয়ে দেওয়া। ‘স্বর্ণ প্রসাদম’ তৈরি হয়েছে একেবারে প্রিমিয়াম উপাদান দিয়ে, যার মধ্যে রয়েছে:
পাইন বাদাম (চিলগোসা)
খাঁটি জাফরান
ভোজ্য সোনার ছাই (স্বর্ণ ভাষ্মা)
মিষ্টিটি ঝকঝকে সোনালী রাঙতা দিয়ে মোড়া থাকে। প্রতিটি টুকরোর দাম প্রায় তিন হাজার টাকা। এই রাজকীয় মিষ্টিকে গয়নার মতো দেখতে একটি বিশেষ বাক্সে পরিবেশন করা হয়। অঞ্জলি জৈনের দাবি, এতে ব্যবহৃত ‘স্বর্ণ ভাষ্মা’ আয়ুর্বেদে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পরিচিত। ফলে এটি স্বাস্থ্য-সচেতন গ্রাহকদেরও নজর কাড়ছে।
অন্যান্য বিলাসবহুল মিষ্টি:
‘স্বর্ণ প্রসাদম’ ছাড়াও অঞ্জলি জৈনের আউটলেটে রয়েছে আরও কিছু ব্যয়বহুল মিষ্টি:
স্বর্ণ ভাষ্মা: প্রতি টুকরোর দাম ₹১,৯৫০ টাকা (প্রতি কেজি ₹৮৫ হাজার টাকা)।
চণ্ডী ভাষ্মা: প্রতি টুকরোর দাম ₹১,১৫০ টাকা (প্রতি কেজি ₹৫৮ হাজার টাকা)।
এই সব দামি মিষ্টিতে বাদাম, পেস্তা, কাজু, ডুমুর, ব্লুবেরি, সাদা চকোলেট এবং লবণাক্ত মাখন ক্যারামেলের মতো বিদেশী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কাজু কাটলি, রসমালাই এবং লাড্ডুর মতো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিগুলিকেও নতুন মোড়কে পরিবেশন করা হচ্ছে।
উৎসবের আনন্দ বাড়াতে অঞ্জলি এই দীপাবলির জন্য বিশেষ “পাটাখা থাল” (আতশবাজির থালা) চালু করেছেন। এতে পটকা, ঝিলিমিলি এবং প্রদীপের আকারে কাজু-ভিত্তিক মিষ্টি সাজানো রয়েছে। থালায় স্থান পেয়েছে ‘স্বর্ণ ভাষ্মা রসমালাই’ এবং স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য তৈরি শুকনো ফলের কেক। এই দীপাবলিতে জয়পুরের মিষ্টির দোকানগুলি কেবল মিষ্টি নয়, বিলাসিতা, শৈল্পিকতা এবং সুস্থতার এক নতুন মিশ্রণ তুলে ধরছে।