৮০০ টাকার মাটি থেকে মাসে আয় ১৫ হাজার টাকা! মাটির ভাঁড় তৈরির এই লাভজনক ব্যবসা দেখাচ্ছে স্বনির্ভরতার দিশা

একসময় হাতে তৈরি মাটির ভাঁড় ছিল কেবল নস্টালজিয়া। কিন্তু প্লাস্টিক বর্জনের বর্তমান সময়ে এই মাটির ভাঁড় তৈরির আধুনিক পদ্ধতিই এখন স্বনির্ভরতার নতুন পথ দেখাচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীর যুবক সুজিত ঘোষ সেই পথেই হেঁটে মোটা টাকা উপার্জন করছেন এবং অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছেন।

লাভজনক ব্যবসার সূত্র:

সুজিত ঘোষ জানিয়েছেন, আধুনিক মেশিনের সাহায্যে এখন দ্রুত মাটির ভাঁড় তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করছে। তিনি বলেন, “ধীরে ধীরে প্লাস্টিক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাই মাটির জিনিসের চাহিদা এখন বাড়ছে। আমার তৈরি মাটির ভাঁড় এখন বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। এটা সত্যিই খুবই ভালো একটা ব্যবসা।”

এই মেশিনে শুধু ভাঁড় নয়, থালা, দইয়ের ভাঁড়, গ্লাস ইত্যাদিও তৈরি করা যায়। মাটির ভাঁড়ে চা পান যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তেমনি এটি পরিবেশবান্ধবও।

খরচ ও আয়ের হিসাব:

এই ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজন কেবল মাটির ভাঁড় তৈরির মেশিন ও কিছু পরিমাণ মাটি। সুজিত বাবু একটি সহজ হিসাব দিয়ে দেখিয়েছেন, এটি কতটা লাভজনক:

মাটির খরচ: স্থানীয় এলাকা থেকে মাটি সংগ্রহ করা যায়, যেখানে এক ট্রাক্টর মাটি কিনতে খরচ হয় মাত্র ৮০০ টাকা।

উৎপাদন: এক ট্রাক্টর মাটি থেকে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার ভাঁড় তৈরি করা সম্ভব।

বিক্রির দাম: প্রতিটি ভাঁড়ের বাজারদর ৭০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত।

মোট আয়: ৮০০ টাকার মাটি থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

সুজিত বাবু আরও জানান, বর্তমানে বাজারে মাটির ভাঁড়ের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, কারণ সাধারণ মানুষ প্লাস্টিক বা কাগজের কাপের বদলে মাটির ভাঁড়েই চা পান করতে বেশি পছন্দ করছেন।

কেউ যদি এই মেশিন কিনে ব্যবসা শুরু করতে চান, তবে তাঁকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া শেখানো হয়। মেশিন কেনা ও ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ৯৭৭৫৭৩৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।