টোটো চালকদের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ! রাজ্যে কি এবার ফিরবে শৃঙ্খলা? চালু হল QR কোড সহ এনরোলমেন্ট

রাজ্যজুড়ে বেআইনি টোটোর দাপট এবং দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এবার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত টোটো চালকদের জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার পর ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হবে। পরিবহন দফতরের এই উদ্যোগ রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
টোটো রেজিস্ট্রেশন নিয়ে কড়াকড়ি:
যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং টোটো চালকদের সঠিক রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার গত ১৩ অক্টোবর থেকে টোটো রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করেছে, যা চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
এই সময়ের মধ্যে সমস্ত টোটো মালিকদের তাদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করানো বাধ্যতামূলক।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করতে একটি নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশনের পর প্রতিটি টোটোকে একটি করে QR কোড সহ একটি অস্থায়ী টোটো এনরোলমেন্ট নম্বর দেওয়া হবে।
লাইসেন্স প্রদানে বড় উদ্যোগ:
পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যের টোটো চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং চালকদের পেশাগত স্বীকৃতি মিলবে। পরিবহন দফতরের এক আধিকারিক জানান, একবার টোটোর প্রকৃত সংখ্যা হাতে এলে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে জেলাভিত্তিক অফিসগুলি সক্রিয় হয়ে সেই কাজ দ্রুত সেরে দেবে।
রাজস্ব বৃদ্ধি ও যাত্রী সুরক্ষা:
রাজ্য পরিবহন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বহু সুবিধা হবে:
রাজ্যের মোট টোটোর সংখ্যা জানা যাবে, যা যানজট নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
টোটোগুলিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনায় সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।
চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বেআইনিভাবে টোটো তৈরি এবং বিক্রি করা বন্ধ হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর ভিন্ন মত:
তবে রাজ্য সরকারের এই ই-রিক্সা ও টোটোর নিবন্ধনের পদক্ষেপকে মেনে নিতে নারাজ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, এই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি আসলে ‘টাকা তোলার একটি কৌশল’ ছাড়া আর কিছুই নয়। যদিও প্রশাসন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।