অযোধ্যায় ২৮ লক্ষ প্রদীপের মহাযজ্ঞ! দীপোৎসবে ৫৬ ঘাট সেজে উঠছে স্বর্গের সাজে, রেকর্ড ভাঙার প্রস্তুতি তুঙ্গে

প্রদীপের আলোয় আবারও ইতিহাস তৈরি করতে প্রস্তুত রাম নগরী অযোধ্যা। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত নবম দীপোৎসব ২০২৫ এবার এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চলেছে। সরযূ নদীর ৫৬টি ঘাটে প্রায় ২৮ লক্ষ প্রদীপের চোখ ধাঁধানো আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে পুরো তীর, যা এক স্বর্গীয় দৃশ্যের জন্ম দেবে। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক এই দীপোৎসবের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছেন, যার ফলে পুরো অযোধ্যা নগরী এখন ‘রামময়’ পরিবেশে ডুবে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ডঃ রামমনোহর লোহিয়া অবধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয় এই মহাযজ্ঞের প্রস্তুতি। সাতটি বাসে করে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে রাম কি পৈড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন হাজারো উৎসাহী স্বেচ্ছাসেবক। দীপোৎসব ট্র্যাফিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক অনুপ কুমারের নির্দেশনায় ঘাটে ঘাটে প্রদীপ সাজানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। ঘাটে পৌঁছানোর পর থেকেই স্বেচ্ছাসেবকরা চরম উৎসাহের সঙ্গে দ্রুত গতিতে প্রদীপ পাতার কাজ শুরু করেন।

দীপোৎসবের নোডাল অফিসার অধ্যাপক সন্ত শরণ মিশ্র জানিয়েছেন, এবারের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। মোট ৫৬টি ঘাটেই প্রদীপের চালান পৌঁছে গেছে এবং সাজানোর কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যেই সমস্ত ঘাটে প্রদীপ সাজানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপর ১৯ অক্টোবর, মূল দীপোৎসবের দিন স্বেচ্ছাসেবকরা প্রদীপে তেল ঢালা, সলতে লাগানো এবং সেগুলি জ্বালানোর পবিত্র কাজটি সম্পন্ন করবেন।

উপাচার্য ডঃ বিজেন্দ্র সিংয়ের কথায়, “দীপোৎসব শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং উৎসর্গের প্রতীক।” মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের স্পষ্ট নির্দেশনায় এবার নতুন ইতিহাস গড়া হবে। লক্ষাধিক প্রদীপের মাধ্যমে এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ৫৬টি ঘাটে একসঙ্গে ২৬ লক্ষ ১১ হাজার ১০১টি প্রদীপ জ্বালানো হবে— এই বিপুল আয়োজনের জন্যই ২৮ লক্ষেরও বেশি প্রদীপ সাজানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। আইডি কার্ড ছাড়া কোনো স্বেচ্ছাসেবককে ঘাটে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। শুক্রবারের মধ্যে সমস্ত স্বেচ্ছাসেবককে টি-শার্ট, টুপি এবং আইডি কার্ড বিতরণ করা হবে। অবধ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন কলেজ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর এই সমর্পণই প্রমাণ করে যে দীপোৎসব এখন অযোধ্যার আত্মায় পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী নিজে এই প্রস্তুতির নিয়মিত পর্যালোচনা করছেন, তাঁর লক্ষ্য – এই উৎসব যেন ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মার বিশ্বব্যাপী প্রদর্শনী হয়ে ওঠে।