কালীপুজোয় বাজির শব্দে আপনার পোষ্য কি ভয়ে কাঁপছে? হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে কী করবেন? জানুন বিশেষজ্ঞদের ৬ জরুরি টিপস

শহর যখন কালীপুজো আর দীপাবলির উন্মাদনায় ভাসছে, আলোর রোশনাইয়ের নীচে লুকিয়ে থাকে এক তীব্র আতঙ্ক। আর এই আতঙ্ক মানুষের নয়, আমাদের চারপেয়ে সদস্য, বিশেষত কুকুরদের। প্রতি বছর বাজি পটকার তীব্র শব্দে দিশেহারা হয়ে পড়ে এই অবলা প্রাণীগুলি। ক্রমাগত ভয়ে কাঁপা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘরের কোণে বা খাটের তলায় লুকিয়ে পড়া—যারা পোষ্য রাখেন, তারা তাদের সারমেয় সঙ্গীর এই কষ্টকর অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত। উৎসবের এই আনন্দ যেন ওদের জীবনে বিভীষিকা হয়ে না ওঠে, তার জন্য বিশেষ সতর্কতা জরুরি।
পশু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কুকুরদের শ্রবণশক্তি মানুষের চেয়ে বহুগুণ বেশি প্রখর। আমাদের কাছে যা সহনীয় শব্দ, সেই তীব্র আওয়াজ ওদের শ্রবণেন্দ্রিয়তে ভয়ঙ্কর আঘাত হানে। আকস্মিক ও তীব্র শব্দে ওরা এতটাই আতঙ্কিত হয় যে অনেক সময়ে স্নায়বিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলে। ভয়ে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়া বা রাস্তাঘাটে বেরিয়ে গাড়ির তলায় চাপা পড়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে।
এই পরিস্থিতিতে আপনার প্রিয় পোষ্যকে সুরক্ষিত রাখতে পশু চিকিৎসক এবং প্রাণী বিশেষজ্ঞরা যে ৬টি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিচ্ছেন, সেগুলি নিচে দেওয়া হল:
১. নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করুন: বাড়ির এমন একটি জায়গা বা ঘর বেছে নিন যেখানে বাইরের শব্দ তুলনামূলকভাবে কম প্রবেশ করে। সেখানে পোষ্যের নরম বিছানা, প্রিয় কম্বল ও পছন্দের খেলনা রেখে দিন। এটি ওদের মানসিক নিরাপত্তার জন্য ‘সেফ প্লেস’ হিসেবে কাজ করবে।
২. শব্দ ও আলোর ঝলকানি থেকে আড়াল: বাজি ফাটানো শুরু হওয়ার আগেই বাড়ির সমস্ত দরজা-জানলা ভালোভাবে বন্ধ করে দিন। ভারী পর্দা টেনে দিলে শব্দ এবং আলোর ঝলকানি, দুটোই কিছুটা কমবে। মৃদু ভলিউমে গান বা টেলিভিশনের শব্দ চালিয়ে রাখুন, যা বাইরের আওয়াজ থেকে ওদের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরাতে সাহায্য করবে।
৩. শান্ত থাকুন, পাশে থাকুন, তবে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি নয়: আতঙ্কের মুহূর্তে আপনার পোষ্য আপনার সান্নিধ্য চায়। ওকে একা ছেড়ে দেবেন না। তবে মনে রাখবেন, আপনার নিজের মধ্যে অতিরিক্ত আদিখ্যেতা বা ভয় পাওয়ার মতো প্রতিক্রিয়া দেখালে পোষ্য আরও বেশি আতঙ্কিত হবে। আপনি শান্ত থাকলে ও ভরসা পাবে। আপনার স্বাভাবিক আচরণই ওর কাছে সবচেয়ে বড় আশ্বাস।
৪. কখনও বেঁধে রাখবেন না: আতঙ্কের মুহূর্তে কুকুর ছোটাছুটি করতে চায়। এই সময়ে গলায় শিকল বা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা চরম বিপজ্জনক হতে পারে। ভয়ে ছটফট করতে গিয়ে গলায় ফাঁস লেগে বড় দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে।
৫. মনোযোগ ঘোরানোর চেষ্টা: বাইরে যখন তারস্বরে বাজি ফাটছে, তখন পোষ্যকে ওর প্রিয় কোনও খেলা বা নতুন খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। চিবানোর জন্য শক্ত খেলনা বা হাড় জাতীয় কিছু দিলে ওর মনোযোগ সেদিকেই থাকবে এবং বাইরের শব্দ কিছুটা হলেও গৌণ হবে।
৬. পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন (প্রয়োজনে): যদি দেখেন আপনার পোষ্য বাজির শব্দে খুব বেশি কষ্ট পায় বা স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে আগে থেকেই একজন পশু চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্বেগ কমানোর জন্য নিরাপদ ওষুধ বা থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন। মনে রাখবেন, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া নিজে থেকে কোনও শান্ত করার ওষুধ বা ঘুমের ওষুধ দেবেন না।
আমাদের একটুখানি সংবেদনশীলতা আর সতর্কতাই এই অবলা জীবগুলির উৎসবের জীবন দুঃস্বপ্নে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে। সকলের জন্য এই দীপাবলি হোক নিরাপদ ও আলোকময়।