রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নেপথ্যে এই নেতা! কে এই নূর ওয়ালি মেহসুদ, যিনি কাঁপিয়ে দিচ্ছেন পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত?

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মূলে রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এই সংগঠনের প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ। দুই দেশের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও, মূল সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এই টিটিপি-কে আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদই পাকিস্তানের ভেতরে প্রায় প্রতিদিনের হামলার নির্দেশ দিচ্ছেন।

পাক নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে কাবুলে এক বিমান হামলায় মেহসুদকে বহনকারী একটি বুলেটপ্রুফ টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজারকে টার্গেট করা হয়েছিল। এটি ছিল ২০২২ সালে আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি হত্যার পর কাবুলে প্রথম বিমান হামলা। গোয়েন্দারা মনে করছেন, মেহসুদ সেই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন। হামলার পরপরই টিটিপি মেহসুদের কণ্ঠ বলে দাবি করে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করে, যেখানে তিনি তাঁর মৃত্যুর খবরকে ভুয়ো বলে দাবি করেন।

২০১৮ সালে টিটিপি-র তিনজন নেতা মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর নূর ওয়ালি মেহসুদ এই জঙ্গি সংগঠনের দায়িত্ব নেন। বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মতত্ত্বে প্রশিক্ষিত এই নেতা কূটনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে বিভক্ত গোষ্ঠীগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করে টিটিপি-কে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তিনি শুধু অস্ত্রের লড়াই নন, আদর্শের লড়াইও শুরু করেছেন।

২০২১ সালে আফগান তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর টিটিপি আরও স্বাধীনভাবে চলাচল এবং অস্ত্র সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানে, বিশেষত আফগান সীমান্তঘেঁষা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে অসামরিক এলাকায় হামলা চালালেও, মেহসুদ এখন কৌশল বদলে কেবল সেনা ও পুলিশকে টার্গেট করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী আবেগে জোর দিয়ে মেহসুদ অন্তত তিনটি বই লিখেছেন। এর মধ্যে একটি বইয়ে তিনি টিটিপি-র বিদ্রোহকে ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আঞ্চলিক বিশ্লেষক আবদুল সায়েদের মতে, মেহসুদ নিজেকে পশতুন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে আফগান তালিবানের মতো এক ইসলামিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান। অন্যদিকে, পাকিস্তান সেনা টিটিপি-কে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্যপুষ্ট ‘বিকৃত ইসলাম’-এর ধারক বলে অভিযোগ করেছে, যা ভারত সরাসরি অস্বীকার করেছে।