মোদীকে ‘ভাল বন্ধু’ বলে ট্রাম্পের ‘হুমকি’! রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে বড় দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের, চাপ এবার চীনের দিকে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তবে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে জল্পনা। ট্রাম্প একদিকে মোদীকে ‘খুব ভালো বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, তাঁর বক্তব্যে প্রচ্ছন্ন হুমকির সুর দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

ওভাল অফিসে এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেলের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। মস্কোর ওপর বিশ্বব্যাপী চাপ বাড়ানোর জন্য এটিকে তিনি ‘একটি বড় পদক্ষেপ’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

ভারতকে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবে দেখেন কিনা, এএনআই-এর এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) আমার বন্ধু। আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক… ভারত তেল কিনছিল বলে আমি খুশি ছিলাম না। আর তিনি আজ আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তারা রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। এটা একটা বড় পদক্ষেপ। এখন আমাদের চিনকেও একই কাজ করাতে হবে…”

ভারতীয় নেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, “তিনি আমার বন্ধু। আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক। আপনারা জানেন, তিনি মাত্র দুদিন আগেই একথা বলেছেন।”

রাশিয়া থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানির তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “তিনি রাশিয়া থেকে তেল কেনায় আমরা খুশি ছিলাম না, কারণ এর ফলে রাশিয়া এই হাস্যকর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে, যেখানে দেড় মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রাশিয়া দেড় মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সৈনিক।”

দীর্ঘদিন ধরেই ভারত তার জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য মস্কো থেকে তেল আমদানিকে অপরিহার্য বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লিকে ক্রমাগত তার শক্তির উৎস বহুমুখী করার জন্য অনুরোধ করে চলেছে।

চলমান সংঘাতকে অপ্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না, কিন্তু এটি এমন একটি যুদ্ধ যা রাশিয়ার প্রথম সপ্তাহেই জেতা উচিত ছিল, আর তারা এখন চতুর্থ বছরে প্রবেশ করছে। আমি চাই এটা বন্ধ হোক। তাই ভারত তেল কেনায় আমি খুশি ছিলাম না।”

তিনি আরও বলেন, “এবং তিনি আজ আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তারা রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। এটি একটি বড় পদক্ষেপ। এখন আমাকে চিনকে দিয়েও একই কাজ করাতে হবে।”

মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার সমাধানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের তুলনা টেনে ট্রাম্প বলেন, “আপনারা জানেন, আমরা গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যা করেছি তার তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে সহজ। মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা ৩,০০০ বছরের, এবং আমরা তা সমাধান করেছি। এটি তিন বছরের।”

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত সমাধানের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ট্রাম্প যোগ করেন, তিনি মনে করেন প্রেসিডেন্ট পুতিনও এটা করতে চান। তবে পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে ‘প্রচণ্ড শত্রুতা’ প্রক্রিয়াটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।